Friday, 16 August 2019

কোরবানির ঈদ

ছোট্ট আবরার বেজায় খুশি
কোরবানির এই ঈদে,
'হাম্বা'র মাংস খাবে বলে
খুব লেগেছে ক্ষিধে।
ক'দিন ধরে বেশ উতলা
যাবে গরুর হাটে,
হাম্বা কিনে আনবে সে
ঘাস খাওয়াবে মাঠে।
বাপ্পা যবাই করবে গরু
পা ধরবে সে,
সে খুশিতে ক'দিন ধরে
ঘুরছে গরুর পাশে।
হাম্বা হাম্বা ডেকে ডেকে
করছে নকল ডাক,
যবাই করা গরুর মাংস
করবে তিন ভাগ।
গরীর-দুখির জন্য একভাগ
একভাগ আত্মীয়-স্বজন,
বাকী ভাগে যেটুক থাকে
খাবে তারা ক'জন।

রাক্ষসীর মা


কেড়ে নিলো স্বাধীনতা
কেড়ে নিলো নামায,
কেড়ে নিলো মানবতা
ভেঙে দিলো সমাজ।
ভারতমাতা চাইছে কি
কাশ্মীরিদের মাথা?
কখন হলো রাক্ষসীর মা
মোদির ভারতমাতা?
অমিত সম্ভাবনার দেশে
অমিত-মোদি মিলে,
হিন্দুতন্ত্রের ঢুল পিটিয়ে
মুসলমান খায় গিলে।
গুজরাট থেকে কাশ্মীরে নয়
ভারত জুড়েই মুসলমান,
পাশবিকতায় করছে নিধন
অমিত-মোদির গো-সন্তান।
অমিত-মোদির বিজেপি আজ
হিন্দুত্ববাদীর জঙ্গিরূপ,
মুসলমানের জন্য তারা
করছে খনন মৃত্যুকূপ।
জেগে ওঠো মুসলিমরা আজ
বদর বাহিনীর মতো,
বুক চিতিয়ে লড়াই করো
মুয়াজ-মুয়াফফেজের মতো।
(কাশ্মীরি মুসলমানদের আজ ঈদের নামাজ পড়তে দেইনি অমিত-মোদির জঙ্গি সেনা)

চামড়ার দাম


কে ঠকলো, কে মরলো
তাতে কিবা আসে যায়,
চামড়া মোটা মানুষগুলোর
সব সুবিধা পাওয়া চায়।
লোকে যে যা বলুক তাকে
কিছুই গায়ে লাগেনা তার,
মানুষ ঠকুক কিংবা মরুক
যথার্তই চাই লাভের হার।
মানুষেরই দাম যেখানে
তাদের কাছে মূল্যহীন,
এতিমের আর কিবা মূল্য
গরীবকে তারা করে ঘিন।
মানুষেরই চামড়ার দাম
যাদের কাছে অর্থহীন,
পশুর চামড়ার দামের জন্য
কেন তাদের শর্তদিন?
তাদের চামড়া পশুর চামড়াই
তফাৎ বেশী দেখিনা,
কুরবানি করা পশুর চামড়া
দামি বেশী, ঠিক কিনা?

Saturday, 10 August 2019

জ্যাম

জামাল রব্বানী

ঈদ ছুটিতে যাচ্ছে মানুষ
শহর ছেড়ে গ্রামে,
উপচে পড়া যানগুলো সব
পড়ছে ভীষণ জ্যামে।

বাসের সারি থমকে আছে
মহা সড়ক জুড়ে,
রেলের বগি আটকে আছে
ঢাকার কমলাপুরে।

লঞ্চঘাটে যায়না ভেড়া
যাত্রীর ভীষণ ভীড়,
লাখে লাখে যাচ্ছে মানুষ
আপন আপন নীড়।

পশুর সাথে পশুত্বকেও কোরবানি করা প্রয়োজন





শুধু বড় বড় নামি দামী পশুকে কোরবানি করলেই কোরবানি হবেনা মুলত আত্বার কু-বাসনা হিংসা লোভ লালসাকে ও মানসিক পশুত্বকে পরিহার করার নামই হলো আসল কোরবানি।
কোরবানি অর্থ কাছা কাছি, নৈকট্য, সান্নিধ্য লাভ, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জিল হজ মাসের ১০ তারিখের সুবে সাদিক হইতে ১২ তারিখ সুর্যাস্ত পর্যন্ত তারই নামে গৃহ পালিত পশু/হালাল উপার্জিত টাকায় পশু ক্রয় করে জবেহ করার নাম কোরবানি।

পশু কোরবানি দিয়ে নিজের আত্বার পশু সুলভ আচরনকে কোরবানি করার মাধ্যমে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ) এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই কোরবানির শিক্ষা।
তাইতো কবি নজরুলের ভাষায় বলতে হয়,
“যত দিন না কায়েম হবে খোদার ধরায় তারই দ্বীন,
কিসের আবার ঈদের খুশি, এই আনন্দ অর্থ হীন”। 
তাই আসুন ভোগে নয় ত্যাগের মাধ্যমে কোরআন হাদিসের আলোকে সমাজ,দেশ এবং জাতীকে সুন্দর করে গড়ে তুলি।
আল্লাহ আমাদের সকলের কোরবানিকে কবুল করে ঈমানদার ও সালেহিনদের সাথী করে নিন আমি

বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

Wednesday, 7 August 2019

রাজাকার


জামাল রব্বানী


একাত্তরে আমার দেশে
ছিল কত কুলাংগার,
পাক হায়েনার সাথে মিলে
গঠন করে রাজাকার ।

নামটা বড়ই সুন্দর ছিল
কাজ ছিল সব বিভৎস,
দেশের হয়ে দেশের মানুষ
খুন করেছে নৃশংস ।

ধর্ম ছিল মুল হাতিয়ার
কর্ম ছিল জঘন্য,
অথচ তারা প্রচার করে
তারাই নাকি বরেণ্য !

বরেণ্য কি জঘন্য
প্রমাণ মিলে কাজেতে,
মাথায় টুপি- দিয়ে লুটে
সকাল বিকাল সাঁঝেতে।

নারীর ইজ্জত কেড়ে নিতে
বিবেকে যাদের বাঁধেনা,
তাদের কী ধর্ম আবার ?
ধর্ম তাদের সাজেনা ।

সাজে তাদের গলায় ফাঁস
বেঁচে থেকেও জীবন্ত লাশ ।।


Monday, 5 August 2019

একটি আমের জন্য

জামাল রব্বানি

টুপটুপ বৃষ্টি পড়ছে। মৃদু ঠান্ডা হাওয়াও বইছে। বোশেক মাস। আমের দিন। প্রচন্ড গরমের মধ্যে এ যেন খানিকটা প্রশান্তি ও প্রস্বস্থি। রাব্বির কঁচি চঞ্চলা মন বারবার চাইছে একটু বাইরে বেরুতে। কিন্তু মায়ের বকুনি শুনতে হবে ভয়ে বের হচ্ছেনা। ক্লাস সিক্সে পড়–য়া একটা ছেলের মন কেমন হয় সেটা হয়তো সকলে আমরা বুঝি। কারণ সে শৈশবকালটি আমরা সকলে পেরিয়ে এসেছি। একটু খেলাধুলা, বাইরে বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি, দাপাদাপি, আমের দিনে আম কুড়ানো, আম গাছে ঢিল ছোড়া, ভরদুপুরে বাড়ীর সামনের পুকুরে সাঁতার কেটে পানি ঘোলা করা এই যা।  
রব্বির স্কুল গ্রীষ্মের বন্ধ। স্কুল যেদিন বন্ধ দিয়েছে সেদিন তার কী যে খুশি। এই তো সূযোগ। এবার বেশী করে বন্ধুদের সাথে খেলতে পারবো, আড্ডা দিতে পারবো,  আম কুড়াতে পারবো। কত মজা হবে।
রাব্বিদের কোন আম গাছ নেই। থাকবে কোত্থকে ? থাকার মতো যার দ’ুদন্ড জায়গা নেই , সেখানে আম গাছ থাকবে কোত্থকে ? 
রাব্বীর বাবা দরিদ্র শ্রমিক। দিনে এনে দিনে খায়। কোন দিন কাজে যেতে না পারলে সেদিন স্ত্রী, পুত্র নিয়ে উপোস থাকতে হয়। তার বাবার উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া মাত্র দুই রুমের একটি কুড়ে ঘরে কোন রকম দিন কাটাতে হয়। কষ্ট করে সংসার চালায় আর স্বপ্ন দেখে একমাত্র পুত্র রাব্বীকে লেখা-পড়া শিখিয়ে বড় মানুষ করবে।
রাব্বীর পাশের ঘরে চাচাদের একটি আম গাছ আছে। ঐ গাছে আম পাকলে সেগুলো একটু বাতাসেই ঝরে পড়ে। টিনের চাল, তাই আম পড়লে ঝন্ করে শব্দ হয়। রাব্বী চায়, ঐ ঝরে পড়া আম নিতে। কিন্তু মা নিতে দেয় না। তারা দরিদ্র হলে কী হবে, আতœসম্মানবোধ আছে। ঐ আম নিতে গেলে যদি বড় কথা বলে। তাই মা নিষেধ করে দিয়েছে উঠোনে আম পড়ে থাকলেও যেন না ধরে। মায়ের সুবোধ বালক রাব্বীও তাই ঔ আম ধরে না। 
মায়ের কাছে সে বায়না ধরেছে, যেন বাজার থেকে তার জন্য বাবা আম এনে দেয়। কিন্তু দরিদ্র পিতার যেখানে নুন্ আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে বাজার থেকে আম কিনে আনা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। তবুও বাবা চেষ্টা করছে আম কিনে এনে ছেলেকে খাওয়াতে। একদিন দু’দিন করে সপ্তাহ চলে যায়। আম আনতে পারেনা। ছেলেকে বারবার আনবে বলে  আশ্বস্থ করে।
একদিন রাতের ঘটনা। রাব্বী রাতের খাবার খেয়ে পড়ার টেবিলে পড়ছে। পরিশ্রমী পিতা সারাদিন মেহনত করে এসে রাতে খাবার পর আর বসে থাকতে পারে না। শুয়ে পড়ে। মা ছেলের পড়ার জন্য রাত জেগে থাকে, বসে থাকে পাশে। কিন্তু সেদিন মাও সারাদিন খাটুনি খাটায় শরীর যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। তাই মাও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছে। রাব্বী মনোযোগ দিয়ে টেবিলে পড়ছে। এমন সময় ঝন্ করে টিনের চালে শব্দ হলো। তার মানে গাছ থেকে আম পড়েছে। হঠাৎ তার মন উৎলা হয়ে ওঠলো। আম খাওয়ার ইচ্ছা হলো। ছোট ছেলে তো। মায়ের নিষেধ থাকলেও আজ কেন জানি তার মন চাইলো ঐ আম খেতে। আধাঁর রাত। সবাই ঘুমিয়ে। এখন একটি আম নিলে হয়তো কেউ দেখবে না। আর একটি আম নিলে কী বা হবে। মায়েরাও ঘুমিয়ে, চাচারাও ঘুমিয়ে। এখনি মুক্ষম সময়।
রাব্বী কান পেতে শুনল কেউ চাচাদের ঘর থেকে বের হলো কিনা। না,  কোন সাড়া শব্দ নাই। নিশ্চিত হয়ে সে চুপিসারে ঘরের দরজা খুললো। অন্ধকার রাত। সামনে দু’কদমও দেখা যাচ্ছে না। সে কুপিটা একটু বের করে উঠোনের কোন্ জায়গায় আমটি আছে নিশ্চিত হলো। তারপর কুপিটা ঘরে রেখে তটস্থ মনে কম্পিত কদমে আমের লক্ষ্যে এগিয়ে গেল। আমের খুব কাছাকছি পৌঁছে সে যেইমাত্র আমে হাত দিবে এমন সময় চাচাদের ঘর থেকে দরজা খুলে গর্জন দিয়ে ওঠলো, কে ?
রাব্বী ভয় পেয়ে গেল। সে কম্পিত কন্ঠে বলল, চাচা আমি রাব্বী।
এখানে কি করছ ? -চাচার ঝাঁঝালো কন্ঠ।
তিনি বলতে লাগলেন, আম চুরি করতে আসছ ? তোমার বাবা তো তোমারে লেখা-পড়া শেখায়। কী, চুরি করার জন্য ? বেটা, লেখাপড়া শিখছে না চুরি শিখছে। ঐতো আমি বলিনা ! যে যত বড় শিক্ষিত, সে তত বড় চোর। তোমার মা তোমারে পেটে নিয়ে কোন দিন আম খাইনি তো। তুমি চুরি করবেনা কি করবে ?- আরো সব বিশ্রি শব্দ চাচার কন্ঠে।
রাব্বীর বাবা-মা ইতোমধ্যে ঘুম থেকে ওঠে এসেছে। বাইরে বেরিয়ে দেখে তাদের একমাত্র আদরের ছেলেটি একটি আমের জন্য সাজাপ্রাপ্ত চোরের মতো নিতর দাঁড়িয়ে আছে আর চোখ দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে। ঐ দিকে চাচা অশ্রাব্য ভাষায় কি সব বলে যাচ্ছে। ছেলের ঐ অবস্থা দেখে বাবা-মা চোখে পানি ধরে রাখতে পারলো না।
বাবা গিয়ে ছেলেকে হাত ধরে ঘরে নিয়ে আসলো। কিন্তু রাব্বীকে কিছুই বললো না।
পরের দিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাসে যখন আম গাছ থেকে আম পড়ছে, অবুঝ রাব্বী সেই আমের দিকে চেয়ে চেয়ে কী যেন ভাবছে।  


Sunday, 4 August 2019

ফারুকী আন্দোলন: ছাত্রসেনার ভূমিকা

মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানী
(চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়)

বাংলাদেশসহ পাক-ভারত উপমহাদেশে সুন্নীয়তের আন্দোলনের অপ্রতিদ্বন্ধী একটি নাম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা। এ সংগঠনটির মাত্র ৩৬ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এটা প্রমাণিত হবে হাজার বছরের সুন্নীয়তের আন্দোলনে ছাত্রসেনার আন্দোলনই অন্যতম। এ মুহুর্তে ছাত্রসেনার আন্দোলন ছাড়া অন্যকোনভাবে সুন্নীয়তকে প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সংগঠনের জোরালো যে ক’টি আন্দোলন সুন্নীয়তকে বাংলার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়ে রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ফারুকী আন্দোলন। বলছি শায়খ আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকী (রহ:)কে শাহাদাতের পরবর্তীতে তাঁর নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে এক তীব্র আন্দোলনের কথা। যে আন্দোলন না হলে হয়তো সুন্নীয়ত যে বাংলাদেশে আছে সেটাই মানুষ বিশ্বাস করতো না। সরকারসহ প্রশাসন জানতো না সুন্নীয়তের শক্তির কথা। এই এক আন্দোলনই দেশ-বিদেশে সুন্নীয়তের শক্তিমত্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০১৪ সালের ২৭ আগষ্ট। এ দিন সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশে সুন্নীয়তের প্রচার-প্রসারে মিডিয়া আলোচক, বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে সুন্নী বিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠি অত্যন্ত নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে। এ খবর যখন মিডিয়ার কল্যাণে সারাদেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঘৃণ্য এই হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রæত গ্রেপ্তারের দাবীতে প্রথম আন্দোলনের ডাক দেয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা। অবশ্য আমাদের কর্মসূচির প্রদানের আগেই সেনার বীর মুজাহিদরা রাস্তায় নেমে পড়ে সাথে সাথে। কারণ আমরা তখনো অপেক্ষা করছিলাম আমাদের মুরব্বীদের কর্মসূচির দিকে। যেহেতু ফারুকী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতা। ঘটনার পরপর আমি ফ্রন্ট মহাসচিব আল্লামা এম. এ. মতিন সাহেবের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু উনার ফোন ব্যস্ত পেলাম। অনেক্ষন পর উনার সাথে কথা বলার সুযোগ পেলেও কর্মসূচির কোন সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত না পেয়ে আমি আমার সভাপতি নুরুল হক চিশতি ভাইয়ের সাথে আলাপ করে উনাকে ঢাকায় আসার জন্য অনুরোধ করলাম। চট্টগ্রামে যেহেতু সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে তাই আমি চট্টগ্রামের আন্দোলনকে দেখাশুনার জন্য চট্টগ্রামেই থেকে গেলাম। ঐরাতে আমি সভাপতি মহোদয়সহ আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে ফোনালাপ করে প্রথমে পরের দিন সকাল ৮ টার মধ্যে ঢাকা- চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের সকল মহাসড়ক সমুহে বেরিকেট সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এর পরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সকল জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। রাত কাটলো ফোনে ফোনেই। 
(হরতালের পরদিন পত্রিকার পাতায়)
সকালে ওঠে রেডি হয়ে রাস্তায় নামতে দেখি গাড়িঘোড়া কিছুই নেই। তার মানে বেরিকেট সময়ের অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। অনেক কষ্টে বর্তমান অর্থ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইনকে নিয়ে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে যেখানে আমাদের জমায়েত হওয়ার কথা সে স্পটে গেলাম। স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার, ঘটনার রাত এ মুরাদপুরেই সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ দেখিয়েছিল আমাদের নেতাকর্মীরা। যা প্রত্যেকটি মিডিয়া প্রচার করেছিল। আমরা সেখান থেকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে রওয়ানা হলাম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দিকে। সেখানে ইসলামী ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। মিছিলের অবস্থা আর সাধারণ মানুষের অবস্থা দেখে সে মিছিলের ¯্রােত বেড়ে তা নিউ মার্কেট হয়ে ঘুরে আসে প্রেস ক্লাবের সামনে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীরা আমাদের কর্মসূচি চাইলে আমি সভাপতি মহোদয়সহ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে খুনিদের গ্রেপ্তারের ২দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ৩১ আগষ্ট পূর্ণ দিবস হরতালের ঘোষণা দিই। একই সাথে ঢাকায় সভাপতি মহোদয়ও হরতালের ডাক দেয়। যাতে আন্দোলন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। বলতে কি, মিডিয়া কর্মী ও প্রশাসনের দৌড়-ঝাঁপ বেড়ে যায়। আর আমাদের কর্মীসহ সাধারণ সুন্নীদের মধ্যে আন্দোলনের এক তীব্রতা সৃষ্টি হয়। সবার মধ্যে মর্দে মুজাহিদ ভাব দেখা যায়। কিন্তু প্রেস ক্লাবে চলা আমাদের মুরব্বী নেতৃবৃন্দের কর্মসূচি হরতাল মুক্ত হওয়ায় কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এমনকি মিডিয়া কর্মীরাও হরতাল হওয়া নিয়ে ধোয়াশার মধ্যে আমাদের বারবার প্রশ্নের সম্মুখিন করেন। এখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ কৌশলগত দিক দিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সমন্বয় কমিটি ব্যানারে আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। আর আহলে সুন্নাত ইতিমধ্যে ১২ দফা ঘোষণার মাধ্যমে হরতালের বিরোদ্ধে অবস্থান নেয়ায় মূলত এ কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত থাকেন।  কিন্তু আমরা হরতালের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করি। আমাদের দাবি একটাই হয়তো ফারুকীর খুনীদের গ্রেপ্তার কর নয়তো হরতাল পালন করবোই। এ ঘোষণায় অটল থেকে আমরা আহলে সুন্নাতের বিক্ষোভ মিছিলেও যোগ দেয়। এ মিছিল চলাকালে প্রশাসনের বিভিন্ন এজেন্সি ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়া হরতাল কর্মসূচি নিয়ে আমার বক্তব্য নিতে শুরু করে। বিবিসির শায়লা রোকসানা প্রায় ১৮ মিনিট ধরে ফারুকী ইস্যুতে হরতাল নিয়ে দলের সামর্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রেকর্ড করে। যার কিছু অংশ ঐদিন রাতে প্রচার করে। এ সময় মনে হলো হরতালটি আন্দোলনের টনিক হিসেবে কাজ করেছে। না হয় মিডিয়া ও প্রশাসনের বিভিন্ন লোকজন এভাবে আমাদের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তো না। চ্যানেল ৭১ এর চট্টগ্রাম অফিস থেকে ফোন করে চ্যানেলটি রাত ১২ টার টক শো’তে কথা বলার জন্য আমাকে অনুরোধ করে। আমি আমার সভাপতি এবং মতিন সাহেবের সাথে কথা বলে ঐ লাইভ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। মনে হয় কোন চ্যানেলে লাইভ টক শো’তে ছাত্রসেনার কোন প্রতিনিধির কথা বলার এটাই প্রথম ঘটনা। আপনারা হয়তো দেখেছেন যেখানে রাজনীতি বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবদুর রশিদ, সাংবাদিক নেতা মন্জুরুল আহছান বুলবুলের মতো ব্যক্তিদের সাথে ছাত্রসেনার আন্দোলন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রামের মতো ঢাকায়ও মিডিয়া কর্মীরা আমাদের আন্দোলনের বিষয়ে সভাপতি মহোদয়ের সাথে কথা বলেন। তিনিও হরতালের যৌক্তিকতা ও সামর্থের কথা জোর দিয়ে বজ্রকন্ঠে বলেছেন। ফলে ঢাকা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ফারুকীর বিচারের দাবিতে এক উত্তাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
(৭১ টিভিতে হরতাল ঘোষণার দিন টক শো'তে)

পরের দিন জুমাবার। আমরা মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং নামায শেষে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভার ডাক দিই। মিডিয়া কর্মীরা ছুটে যায় মসজিদে মসজিদে নিউজ কাভার করতে। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় থাকে সাথে সাথে। সেদিনও আমরা হরতাল বিষয়ে ছিলাম অনঢ়। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে এক মহিলাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মূলত তা ছিল আমাদের আন্দোলনকে বন্ডুল করার জন্য। কিন্তু আমরা তাতে দমে যায়নি। দেশ-বিদেশ থেকে আমাদের নেতাকর্মী সমর্থকরা যেকোন মূল্যে হরতালসহ আন্দোলন সফল করার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকে। এর মধ্যে ঘরে-বাইরে থেকে হরতাল প্রত্যাহারের চাপও আসতে থাকে। নেতৃবৃন্দের যুক্তিও অমূলক ছিলনা কিন্তু আমাদেরও হরতাল প্রত্যাহারের সুযোগ ছিলনা। কেননা কর্মীদের প্রত্যাশার বাইরে যাওয়ার সাহস আমাদের ছিলনা। হরতাল হবে এটা ধরে নিয়ে আমি সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দের সাথে হরতাল ও আন্দোলন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সাথে উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে মতিন সাহেবের পরামর্শও নিচ্ছিলাম। এরই মাঝে পটিয়ার ফ্্রন্ট নেতা আলহাজ্ব আলী হোসাইন ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে ছোট্ট একটি পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা হরতাল প্রত্যাহার নয় বরং পূর্ণ দিবসের বদলে অর্ধ দিবসের সিদ্ধান্ত নাও। তিনি এর সফলতা বিফলতার বেশ ক’টি বিষয়ও  তুলে ধরেছিলেন। যা আমার কাছে খুবই যুক্তিপূর্ণ মনে হয়। এটা মাথায় রেখে ২৯ আগষ্ট শনিবার আমি চট্টগ্রামের দলীয় অফিসে চট্টগ্রামে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সভা আহবান করি। আর ঢাকায় সভাপতির নেতৃত্বে ঢাকায় অবস্থানরত নেতৃবৃন্দরা বৈঠকে মিলিত হয় একই সময়। সত্যি কথা বলতে কি, আন্দোলনের দৌড়-ঝাঁপ এত বেশি তীব্র ছিল আমরা যারা চট্টগ্রামে ছিলাম তাদের তখন ঢাকায় যাওয়ার চিন্তাও করতে পারছিলাম না। কারণ আন্দোলনের মাত্রা অন্য যেকোন স্থান থেকে চট্টগ্রামে কয়েকগুণ বেশি ছিল। 
শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে আমরা একই সাথে যোগাযোগ করে হরতাল সফল করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। হরতাল বিষয়ে একটা নেগেটিভ ধারনা প্রশাসন-মিডিয়াসহ সাধারণ জনগণের আছে যে হরতাল মানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। যেটা নিয়ে আমাকে ৭১ টিভিসহ প্রায় প্রত্যেকটি মিডিয়া থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমরা বারবার বলতে চেষ্টা করেছি যে আমরা কোন ভাঙাভাঙ্গি বা অগ্নিসংযোগের কর্মসূচি দেয়নি, দেবও না। তাই ঐ বৈঠকে আমি প্রস্তাব রাখলাম ভাঙাভাঙ্গি থেকে কর্মীদেরকে বিরত রাখার জন্য আমরা হরতাল পালনকালে মিছিল ও বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিলাদ-কিয়াম ও দরুদ শরীফ আদায় করব। এটা হলে হরতালও শান্তিপূর্ণ হবে আর প্রশাসন মিডিয়াসহ সাধারণ জনগণও আমাদের হরতালকে ব্যতিক্রমী হরতাল হিসেবে মনে রাখবে। যা হবে অন্যান্য দলের জন্য মডেল আন্দোলন। আমার এ প্রস্তাব সবাই গ্রহণ করলে ঢাকায়ও তা জানিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া দাবি আদায় না হলে ৩০ আগষ্ট ঢাকায় বিকাল ৩টায় এবং চট্টগ্রামে বিকাল ৪টায় হরতাল করার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য তৈরী করার জন্য চট্টগ্রাম মহানগরের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ রায়হানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ঐ বৈঠকসহ চট্টগ্রামে আমার সাথে সার্বক্ষণিকভাবে ছিলেন কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, তখনকার সাংগঠনিক সম্পকদ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, অর্থ সম্পদাক আজিম উদ্দীন আহমদ, প্রকাশনা সম্পদাক শাহাদাত হোসাইনসহ চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর ও চবি শাখার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
( হরতাল শেষে যমুনা টিভিতে বিশেষ সাক্ষাতকার)

সেকেন্ড ফুরিয়ে মিনিট, মিনিট ফুরিয়ে যায় ঘন্টা, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করি। কখন খুনি গ্রেপ্তার হবে। হরতালের মতো কঠিন এক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষকে সামান্য সময়ের কষ্ট থেকেও আমরা মুক্ত রাখতে পারবো। কিন্তু না। প্রশাসনের কোন উদ্যোগই পরিলিক্ষিত হয়নি যে তারা খুনিদের গ্রেপ্তার করবে। শেষমেশ আমরা ৩০ আগষ্ট ঢাকা ও চটগ্রামে নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল পালন করার ঘোষণায় বহাল রাখলাম। সেদিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীদের অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত হয়। প্রায় ১৮টি টিভি ক্যামরা সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রেখেছিল। প্রিন্ট মিডিয়ার ফটো সাংবাদিকসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা তো ছিলই। ঢাকায়ও তদ্রæপ সাংবাদিকরা হুড়োহুড়ি করে আমাদের নিউজ কাভার করেছিল। এমনকি সংবাদ সম্মেলন শেষ প্রায় সাথে সাথে সাংবাদিক ভাইয়েরা ফোন করে জানাচ্ছিলেন যে কার নিউজটি আগে প্রচার করা হচ্ছে। যে সাংবাদিকদের হাজার হাজার টাকা দিয়েও নিউজ কাভার করাতে পারিনি তারাই আজ নিউজ প্রচারের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকেও সাংবাদিক সম্মেলন করে আমাদের হরতালকে সমর্থন দেয়া হয়। 

অতপর: সেই ক্ষণ। শক্সকা আর উদ্বেগের মাঝেও সাহসটা ধরে রাখতে পেরেছিলাম অসংখ্য অগণিত কর্মী ভাইদের প্রাণপণ ত্যজিস্বতা ও নিরলস কর্মতৎপরতা দেখে। ৩১ আগষ্টের ভোর ৬ টা যেন অনেক দেরী একটা সময়। প্রায় নেতাকর্মী ভাইয়েরা রাস্তায় নেমে পড়েছিল ৬টার অনেক আগেই। রাতে ঢাকা ছেড়ে আসা নাইট কোচ গুলো আটকে দিয়েছে রাস্তায় রাস্তায়। পুলিশের জোর তৎপরতাও তাদের দূরে সরাতে পারেনি। এ অবস্থা দেখে ৬ টার পর যাদের রাস্তায় গাড়ি নামানোর দু:সাহস ছিল তারাও চুপসে যায়। শুধু ইঞ্জিন চালিত যানবাহন? সাইকেল-রিক্সা-ভ্যান, এমনকি দোকান পাটও বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম যেন এক নিস্তব্ধ শহর। এভাবে খবর আসছিল ঢাকায় সভাপতির নেতৃত্বে কড়াকড়িভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা ঢাকার বুকে বুক উঁচিয়ে গগণ বিদারী চিৎকারে ¯েøাগান তুলছে। ফারুকীর খুনিদের গ্রেপ্তারের তীব্র দাবি সরকারের কর্ণকুহরে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে। ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরসহ সারাদেশে নবী প্রেমিক বীর সেনানী ভাইদের রাজপথে অবস্থানে পুরো দেশ অচল হয়ে যায়। খুনি জঙ্গিদের আস্তানাসহ বাতিলদের কিল্লা যেন দ্রোহের আগুনের জ্বলতে থাকে। সরকার, প্রশাসন, মিডিয়া এবং সাধারণ জনগণ অবাক হয়ে দেখে বীর মুজাহিদদের বীরত্বগাথা। ফারুকী বিচারের দাবি হয়ে ওঠে সকল জনগণের দাবি। সেদিন আমরা চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট মোড়, ফটিকছড়ি থেকে বাঁশখালি এবং টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত খবরাখবর রাখছিলাম। খানিক বাদে বাদে ফোন আসে কুমিল্লায় আমাদের ছেলেদের সাথে হেফাজতের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে, পটিয়ায় ছাত্রলীগের গুন্ডারা আমাদের উপর হামলা করেছে, পাহাড়তলীতে আমাদের কর্মীদের উপর জামাত শিবির চোরগুপ্তা হামলা চালিয়েছে, বহদ্দার হাট থেকে আমাদের ৩জন কর্মীকে পুলিশ এরেস্ট করেছে। ঢাকায় পুলিশ আমাদের মিছিল করতে দিচ্ছেনা বা নারায়নগঞ্জে আমাদের উপর প্রতিপক্ষ হামলা করেছে। চাঁদপুরে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকে হরতালে প্রতিটি সময়। আমাদের দৌঁড়া দৌঁড়িও বাড়ে বেলা বাড়ার সাথে সাথে। আর আমাদের চেয়েও দৌড়া-দৌড়ি বেশি বাড়ে মিডিয়া কর্মীদের। মাদ্রসার এতিমখানার ৭ বছরের বাচ্চাটি থেকে শুরু করে জামেয়ার মুফাচ্ছির-মুহাদ্দিস-মুফতিরাও মাঠে নামে ¯েøাগান দেয়, মিছিল করে। তদ্রæপ ঢাকাসহ সারাদেশে। হরতালের সময় ফুরুতে ফুরুতে আমরা ঢাকা চট্টগ্রামের সেনা নেতৃবৃন্দ ফোনালাপে হরতাল পরবর্তী কর্মীসূচি ঠিক করে নিই। যেহেতু হরতাল শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হতে হবে। বেলা ২ টা বাজার সাথে সাথে ঢাকায় চিশতী ভাই আর আমি চট্টগ্রামে হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করায় আমাদের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গকে ধন্যবাদ জানাই। পরবর্তী কর্মসূচি আমরা ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম লালদীঘি মাঠে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সমাবেশে ঘোষণা করার কথা বলি। হরতাল শেষে যমুনা টিভি থেকে চট্টগ্রাম স্টুডিওতে সন্ধা ৬টার খবরে সরাসরি বক্তব্য নেয়ার জন্য অনুরোধ করলে আমি, তখনকার সাংগঠনিক সম্পদক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, অর্থ সম্পদাক আজিম উদ্দীন জনি ভাইসহ সেখানে তাদের অনুষ্ঠানে আমাদের সফল কর্মসূচির কথা তুলে ধরি এবং প্রশাসন, মিডিয়া, ড্রাইবার, শ্রমিক, ব্যাবসায়ীসহ জনগণের প্রতি ছাত্রসেনার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এই দিন প্রথম আলোর চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ ফোন করে আমাদের হরতালকে ঐতিহাসিক, নজীরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে। সেদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা এবং পরদিন প্রিন্ট মিডিয়া লীড নিউজসহ একাধিক রিপোর্টে আমাদের হরতালের চুলছেড়া বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। শুধু পত্রিকা বা টিভিতে নয় সাধারণ জনগণ এমনকি বিরোধী মতবাদীরা পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ নজীরবিহীন হরতালের ভূয়সী প্রশংসা করে আমাদের সমর্থন দেয়। যে আন্দোলনটি শুধু ফারুকীর বিচারের দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেনি, সুন্নীদের অবস্থানকেও বিশ্ববাসীর নিকট সগৌরবে উপস্থাপন করেছে। প্রায়ই সবার মূল্যায়ন ছিল যে, এ আন্দোলন ছাত্রসেনাকে নয় শুধু সুন্নী জমাতকেও একশ বছর এগিয়ে দিয়েছে। অনেক আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ হয়তো আমাদেরকে স্বীকার করতে চাননা বা সহযোগীতা করতে চাননা। অথচ মাওলানা ফারুকী নয়, শফিউল নিজামী, প্রিন্সিফাল জালাল উদ্দীন আলকাদেরী সহ অসংখ্য নির্যাতিত আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের বিপদে বীরত্বের সাথে রাজপথে নেমে লড়াই করেছে এ ছাত্রসেনা। আন্দোলনের ডাক দিয়ে বাতিলদের অন্তরে ভয়ের আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এ ছাত্রসেনা। সরকার ও প্রশাসনের তোয়াজ না করে সুন্নীদের শক্ত অবস্থানকে সগৌরবে তুলে ধরেছে এ ছাত্রসেনা। সুতরাং তিন যুগ পূর্তির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সম্মানিত আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখসহ সাধারণ সুন্নী মুসলিম ছাত্র-জনতাকে আহবান জানাই আসুন, সুন্নী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, সুন্নীয়তকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে, এদেশের মসনদে সুন্নীয়তের আদর্শ ভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রসেনার ভাইদের সাথে কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ করি। ইনশা’ল্লাহ ! আমরাই এ বাংলায় সুন্নীয়তের পতাকা উড্ডীন করবো। গড়বো শান্তির সমাজ।




গজল

(১)
আঁই পরান দিত পারি – আঁর নবীল্লাই
কন কেয়াই যদি আঁর নবীরে বড় কথা কয়
ইচ্ছা অয় মেডির ভিতর ঢুকায় দিবাল্লাই।।

আন নবীরুত ঈমান আনি কেনে তারা কয়
দোষে গুনে মানুষ নবী নূররে তৈরী নয় (২)
নবীর শানত এই কটুক্তির জবাব দিবাল্লাই (ঐ)

নবীর উম্মত দাবি গরি যারা আবার কয়
এই যুগুত নাকি নবীর আর্দশর কন দাম নাই (২)
তারা কুরান বাদদি সংবধিান বানাই,দশে চালাইবাল্লাই (ঐ)

যে সমস্ত নাফরমান অল মিলাদুন্নবীরে
র্দূগা পূজার লই ও ভাই তুলনা গরে
তারা শয়তানর উম্মত ইহুদীর এজন্টে, নবীর উম্মত নয় (ঐ)

অলী আল্লাহর মাযার পাকত বোমা মারে যারা
মুসলমান নয় বরং ইসলামর দুশমন তারা
তারার বংশ উদ্ধ এই দেশততুন মুছি দিবাল্লাই (ঐ)

দেশ ও ধর্ম

মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানী


দেশ ও ধর্ম মানুষের প্রাণাধিক ভালোবাসার নাম। একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটির চিন্তাও করা যায়না। পৃথিবীর সূচনা থেকেই ধর্মের অনুসরণ ও তার প্রতি ভালোবাসা যেমন মানুষের জন্মগত স্বভাব, তেমনি যে দেশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে সেদেশের প্রতিও তার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রমাণিত। যুগে যুগে মানুষ যেমন নিজ ধর্মকে রক্ষার জন্য জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন, তেমনি দেশ রক্ষায়ও মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। বরঞ্চ অনেকেই ধর্মকে দেশের চেয়ে হাজারগুণ বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন । প্রয়োজনে তারা দেশ ছেড়েছেন তবু ধর্মকে ছাড়েনি।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফে হিজরত করেছিলেন তখন যাওয়ার পথে তিনি বারবার মক্কার দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘হে আমার জন্মভূমি! যদি আমার মাতৃভূমির লোকজন আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত না করতো, তাহলে আমি কোন দিনই তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।” এখানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেশের প্রতি যেমন ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে তেমনি ধর্মের প্রয়োজনে দেশ ছাড়তেও তিনি দ্বিধা করেননি। তিনি তো ধর্ম এনেছেন পুরো পৃথিবীবাসীর শান্তির জন্য। সমগ্র মানুষের কল্যানের জন্য। শুধু মক্কাবাসীর জন্য নয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন ভূখন্ডের জন্য নয়। তাই তিনি যখন মক্বায় ইসলামের মিশন প্রচার করে নির্যাতিত হচ্ছিলেন তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে শিখিয়ে দেয়া একটি দোয়া তিনি বারবার পড়তেন। যার অর্থ- “ বল, হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিস্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট থেকে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।” ( সূরা বণী ইসরাইল : ৮০)
ইমাম হাসান আল-বসরী, কাতাদা, ইবনে কাসীর, ইবনে জারীর আততাবারী উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, “প্রভু হয় আমাকেই রাষ্ট্র ক্ষমতা দান কর, আর না হয় অপর কোন রাষ্ট্রকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও, যেন আমি তার শক্তি ও ক্ষমতার মাধ্যমে পৃথিবীর এই মহাভাংগন ও বিপর্যয়কে সংশোধন করতে পারি, অশ্লীলতা ও নাফরমানীর এই মহাপ্লাবনকে প্রতিরোধ করতে পারি এবং তোমার সুষম আইন ও বিধানকে চালু ও কার্যকর করতে পারি।”
আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে, ইসলাম ধর্মের সঠিক প্রচার-প্রসার ও প্রয়োগ করতে তাই তিনি নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে তখনকার কুখ্যাত শহর ইয়াসরবে হিজরত করেছেন। যা পরবর্তীতে নবীজির কারণে মদীনাতুন নবী হয়। আর তার পরবর্তী ইতিহাস তো সবার জানা। 
এখন দেশে একটি কথা খুব জোরে শোরে প্রচার করা হচ্ছে যে, দেশ ও ধর্ম এক নয়। দেশের কোন ধর্ম থাকতে পারে না। হ্যাঁ, বাস্তব কথা। দেশের কোন ধর্ম থাকতে পারেনা। ধর্ম তো আচরণিক বিষয়, বিশ^াসের বিষয়। এটা দেশের সাথে নয় মানুষের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু যদি প্রশ্ন করি, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ভাষা ‘বাংলা’র জন্য আন্দোলন করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হায়েনারদের শোষন থেকে ম্ক্তু হয়ে মাতৃভাষা ‘বাংলা’র নামে দেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ রেখেছে। এখানে দেশ ও ভাষাকে তো আলাদা চোখে দেখা হয়নি। ভাষা তো মানুষের মুখের, দেশের নয়। কেন ভাষা থেকে দেশকে আলাদা করা হয়নি? আমাদের দেশের মানুষের জাতীয়তার পরিচয়ে বাঙালী বলতে স্বীকার করি, বাংলাদেশের সংবিধানেও তা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এখানে জাতি আর দেশকে আলাদা করা হয়নি। অথচ এদেশে বাঙালী ও বাংলা ভাষাবাসী ছাড়াও আরো অনেক জাতি ও ভাষার মানুষ রয়েছে। এখানে তো প্রশ্ন ওঠেনা। কেউ যদি বাংলাদেশে থেকে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অথবা বাঙালী জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাকে দেশদ্রোহী বলে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, কেউ কেউ অতি আবেগে দেশ থেকে বিতাড়নের দাবি তুলবে, তাহলে হাজার বছর ধরে লালিত ধর্মের আদর্শ প্রতিষ্ঠার কথা বললে কেন দেশ থেকে ধর্মকে আলাদা করার প্রশ্ন তুলা হয় ?
ভাষা যেমন একটি দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তেমনি ধর্মও শুধু একটি দেশের সাথে সম্পর্কিত নয়। পৃথিবীর অপরপ্রান্তে গেলেও যেমন একজন বাঙালী অপর বাঙালী বা বাংলা ভাষা জানেন এমন মানুষের সাথে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে, ঠিক তেমনি ধর্মও মহান আল্লাহর বিশাল ভূখন্ডের যেকোথাও পালন করতে পারে।
এখানে অধিকাংশ মানুষ বাঙালী ও বাংলা ভাষাবাসী বলে যেমন এদেশের নাম বাংলাদেশ, তেমনি এদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম বা ইসলাম ধর্মে বিশ^াসী বলে এদেশকেও মুসলিম দেশ বলতে অসুবিধা কোথায়?
এখানে তাদের আরেকটি বড় প্রশ্ন, এদেশে তো শুধু মুসলিমরা নয়, হিন্দু-বৌদ্ধরাও বাস করেন। হ্যাঁ, বাস করেন, করবেন। তাতে অসুবিধা কোথায়। দেশের অধিকাংশের ভাষা বাংলাকে যেমন রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে, তাতে কোন অসুবিধা হয়নি, অন্য ভাষাও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বরঞ্চ চলতি বছর থেকে তাদের ভাষায় বই রচনা করে সেসকল জাতির সন্তানদের হাতে তুলে দিয়েছেন শিক্ষার জন্য। তাহলে অধিকাংশ মুসলিমের দেশকে মুসলিম দেশ বললে কেন অন্য ধর্মের মানুষের অসুবিধার কথা আসে? আসলে তাদের খোড়া যুক্তি শুধুই ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের হিংসার ফল।
এখন দেশ যারা শাসন করছে, দেশের সব মানুষ কি তাদের সমর্থন করে? তারাও কি জোর গলায় বলতে পারবে যে, দেশের সব মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ^াস করে? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে বাকীদের কি দেশ থেকে বের করে দিয়েছে? নাকি তারা তাদের আদর্শ নিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেছে? কোনটিই নয়।
অথচ ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কার মানুষের দ্বারা নির্যাতন নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন, শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না, তখন তিনি তাঁর মাতৃভূমির মানুষের সাথে হানাহানিতে লিপ্ত না হয়ে এমন একটি দেশ বেছে নিলেন যেখানে অত্যন্ত সুষ্টু ও সুন্দরভাবে আল্লাহর বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা যায়। অত:পর তিনি মদীনায় গিয়ে সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষদের নিয়ে গঠন করলেন মহান আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত বিধান সম্বলিত ইসলামী রাষ্ট্র এবং তিনি হলেন সে রাষ্ট্রের প্রধান। মদীনা সনদ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সনদ হিসেবে স্বীকৃত। 
এখানে স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে পারে, যদি ইসলাম ধর্মে দেশ শাসন বা ধর্মীয় রাজনীতি না থাকে, তাহলে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেন? ওল্ড এবং নিউ টেস্টমেন্টে থেকে জানা যায়, শুধু আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়, বনী ইসরাইলের নবীগণও রাষ্ট্র সংস্থার সংশোধনের চেষ্টা করেছেন এবং ভ্রান্ত নেতৃত্বের অবাধ সমালোচনা করেছেন। আমাদের পবিত্র কোরআন মজীদেও দেখা যায় হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামও নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তা আদর্শিক মানে পরিচালনা করেছিলেন। যদি দেশ ও ধর্ম আলাদা হতো তাহলে এসকল নবী আলাইহিমুস্ সালামরা কেন ধর্মীয় বিধানে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেন।
মদীনা সনদ থেকে জানা যায়,  যখন নবীজি মদীনা শরীফে আসলেন, দেখলেন তথায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করছে। ১. মূর্তিপূজক সম্প্রদায়, ২. ইয়াহূদী সম্প্রদায়, ৩. খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং ৪. মুসলিম সম্প্রদায়। এদের মাঝে একদিকে ছিল আদর্শিক অমিল আর অন্যদিকে ছিল পরস্পর বিরোধ ও বিবাদ। এতদ্বসত্তেও তিনি সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষদের মাঝে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করলেন। রচনা করলেন ঐতিহাসিক মদীনা সনদ। ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাকের মতে মদীনা সনদে মোট ৫০টি বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়। তন্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করছি।
১. মদীনা সনদে স্বাক্ষরকারী ইয়াহূদী, খ্রীষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমান সম্প্রদায়সমূহ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং তারা সবাই একটি সাধারণ জাতি বা উম্মাহ হিসেবে গণ্য হবে। 
২. হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের প্রধান হবেন এবং পদাধিকর বলে তিনি মদীনার সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সর্বময় কর্তা হবেন।
৩. পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে। মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায় বিনা দ্বিধায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন, কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
আমার মনে হয়, মাত্র এ তিনটি ধারায় ইসলামী রাজনীতি বা ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের অপপ্রচারের দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। আর না হয় বলতে হবে, তারা এসকল বুঝে বিরোধীতা করছে, কারণ তারা ইসলামের বিরোধী। এছাড়া ধর্ম ও দেশকে পৃথক করার কোন যৌক্তিকতা নাই। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুক। 

Thursday, 1 August 2019

জিহাদ ! জিহাদ!


একবিংশ শতাব্দির সুচনাতেই
ধাক্কা খেয়েছে মুসলিম জাহান,
টুইন টাওয়ার আক্রমনের কল্পিত অযুহাতে
হায়েনার দল ইহুদী, খ্রীষ্টান
ক্ষত-বিক্ষত করে পূণ্য আফগানিস্থান।

কেন বিন লাদেন নাম দিয়ে
স্টীম রোলার চালানো হলো,
আমার কালেমার কন্ঠদের
বোমাঘাতে ধ্বংস করা হলো,
জবাব দেবে কি, হে বিশ্বের
অসভ্য ইহুদী, খ্রীষ্টান ?

মাসজিদুল আকসার স্মৃতি বিজড়িত ফিলিস্তিন
খুনি শ্যারনের নগ্ন থাবায় ক্ষত-বিক্ষত,
রক্তে শিক্ত হচ্ছে নূর নবীর নুরী কদম ধুলা
নারকীয় উল্লাসে চলছে ধ্বংসের হোলিখেলা
নয় কী বর্বরতা ? নয় কী পাশবিকতা ?
কেন এমনটি করা হচ্ছে মোদের?

দু’চোখ খুলতে পারি না
কী করুণ প্রতিচ্ছবি,
পিতার কাঁেধ শিশুর লাশ
শিশুর কাঁেধ পিতার লাশ
 যা দৃষ্টে লজ্জায় পাখিরা ফিরছে নীড়ে,
আকাশ লজ্জায় মেঘে ঢাকছে,
কিশলয় সব উন্মত্ত হাওয়ায়
ঝটপট করে চিৎকার করছে-
এ নিষ্টুর বর্বরতা থামাও
মানবের এ হিং¯্রতা থামাও
ঝিমিয়ে পড়া রক্তে শিহরণ উঠেছে
সুহৃদ গগণ বিদারী চিৎকার করছে
জিহাদ ! জিহাদ !

# (২০০১ সালের লেখা)

সংগঠনের প্রচার প্রসারে মিডিয়ার গুরুত্ব ও সংবাদ লেখার কৌশল

মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানী

‘মিডিয়া’ একটি ইংরেজি শব্দ। যার অর্থ মাধ্যম। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। যেটাকে গণমাধ্যম বলা হয়। পৃথিবীর কোন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা-দূর্ঘটনা, খবরা-খবর, ঘোষণা যে মাধ্যমে দেয়া হয় তাকে আমরা গণমাধ্যম বা মিডিয়া বলি। গণমাধ্যম সমাজ তথা রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটাকে সমাজের চোখ হিসেবে দেখা হয়। সমাজ বা রাষ্ট্রের যেকোন অসামাজিক, অনৈতিক বা অসমাঞ্জস্য বিষয়াদি মিডিয়া আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে। তা থেকে আমরা শুধরানোর সুযোগ পায়। আবার যেকোন নতুন ফর্মূলা বা তথ্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণময় যেকোন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রস্তাব, পরামর্শ এ মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সহজে জানতে পারি এবং জানাতে পারি। তাই সমাজ পরিবর্তনে মিডিয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মিডিয়াতে শুধু খবর সরবরাহ করেনা, মিডিয়াতে সাহিত্য সাধনা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, বিনোদন, তাহজিব- তমদ্দুন-সংস্কৃতিসহ নানা গবেষণালব্ধ বিষয় ওঠে আসে।
এককালে মিডিয়া বলতে শুধু পত্রিকা বুঝাত। কিন্তু এখন মিডিয়ার পরিধি বেড়েছে। এর অনেক শাখা-প্রশাখা গজিয়েছে। অনেক আধুনিকত্ব ও প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়েছে এর সাথে। এক সময় কোথাও ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা পত্রিকার মাধ্যমে মানুষ জানতে দিন কয়েক সময় লাগতো। এখন তা দু’সেকেন্ড আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসে। এক সময় শুধু আমরা খবরটা পেতাম, কিন্তু এখন আমরা ঐ খবরের এক্সক্লোসিভ ছবি বা ভিডিওও অনায়সে পেয়ে যাচ্ছি।
মিডিয়াকে প্রথমে আমরা দু’ভাগে ভাগ করেছি। যথা-
ক) প্রিন্ট মিডিয়া এবং খ) ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া।
ক) প্রিন্ট মিডিয়া ঃ  ছাপানো দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক বা অন্যান্য পত্রিকা-প্রকাশনার মাধ্যম।
খ) ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ঃ টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল, ইন্টারনেট।

প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। এখন যেকোন খবরের চুলছেড়া বিশ্লেষণ, খবরের সরাসরি সম্প্রচার, বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকের ভাবনা, রাজনীতিবীদ, শিক্ষাবীদ-বুদ্ধিজীবি- গবেষকদের টকশো’র মধ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিষেশ করে ইন্টারনেট মিডিয়া এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।

ইন্টারনেট মিডিয়া বলতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা বা সামাজিক সাইট যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবকে বুঝায়। এগুলো ব্যবহার করে লেখালেখিকে অনলাইন ও অফলাইনে লেখালেখি বুঝায়।
অনলাইন ও অফলাইনে যে ধরনের লেখালেখি করা যায় তা হলো-
যেমন :
১) প্রবন্ধ
২) গল্প/ উপন্যাস
৩) ছড়া-কবিতা
৪) নিজউ/সংবাদ
৫) প্রতিবেদন
৬) ফিচার
৭) জনমত জরিপ ইত্যাদি।

সংগঠনের প্রচারে মিডিয়ার ভূমিকা ঃ আমরা জানি দেশ পরিচালনায় রাজনৈতিক সংগঠনের বিকল্প নাই। একটি রাজনৈতিক সংগঠন তার আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর বড় একটি মাধ্যম মিডিয়া। সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছাপূর্বক যেকোন অন্যায় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দলীয় মতামত বা সোচ্চার প্রতিবাদ মিডিয়ার কল্যাণে সরকারসহ আপামর জনগণের কর্ণগোছর হয়। সংগঠনের যেকোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মিডিয়া রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
যেমন ধরুন, গত ২০ এপ্রিল ২০১৩ ইং সালে ঢাকার শাহবাগের গণ জাগরণ মঞ্চের কতিপয় নাস্তিকদের আল্লাহ - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলাম বিরোধী লেখালেখি এবং ঢাকা বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও মসজিদের বাইরে কোরআন-হাদিস পোড়ানো হেফাজতিদের  বিরুদ্ধে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ঐতিহাসিক গণজমায়েত ও সম্মেলন দেশ বিদেশে আলোড়ন তুলেছিল। সে সম্মেলনকে প্রিন্ট মিডিয়া যেমন গুরুত্ব দিয়ে ছাপিয়ে ছিল তেমনি ইলেকট্রনিক মিডিয়া সরাসরি অনুষ্টান সম্প্রচার, সাক্ষাত প্রচার, টক শো আর ইন্টারনেটের বিভিন্ন সামাজিক সাইটে অগণিত প্রচরণা সারা বিশ্ববাসীর চোখে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকান্ড বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। অথচ সে বিশাল সমাবেশ যদি মিডিয়া প্রচার না করত তাহলে বিশ্ববাসী তো দূরে থাক, দেশের মানুষও দেখতো না এবং তাদের ভুলও ভাঙ্গতো না।
আজকে একটি কথা স্বীকার করতে হয়, আমাদের নিজস্ব কোন মিডিয়া না থাকাতে দেশে ছাত্রসেনা বা ইসলামী ফ্রন্ট যে সকল কর্মসূচি পালন করছে তা নাস্তিকপন্থী মিডিয়াগুলো গুরুত্ব দিচ্ছেনা। ফলে আমরা যা কাজ করি বা  দেশের জন্য বলি তা দেশের মানুষ জানতে পারছে না।
তাই এখন মিডিয়ায় আমাদের সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হলে আমি মনে করি হয়তো আমাদের মিডিয়া সৃষ্টি করতে হবে নয়তো মিডিয়ায় আমাদের কর্মী তৈরী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টি সহজ এবং সেটি মিডিয়া সৃষ্টির জন্যও অপরিহার্য্য। কেননা, একটি মিডিয়া চালাতে হলে সারা দেশ জুড়ে মিডিয়া কর্মী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দরকার। মিডিয়া কর্মী না থাকলে মিডিয়া সৃষ্টি করেও তা বাতিল বা নাস্তিকদের হাতে পরিচালিত হবে। তাই প্রথমত সারা দেশ জুড়ে আমাদের সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী সৃষ্টি করা দরকার।
সংগঠনের স্বার্থে সাংবাদিকতা চর্চা ঃ আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতার উপর ডিপার্টমেন্ট আছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার উপর অনার্স মাস্টার্স করা যায়। সাংবাদিকতার উপর লেখাপড়া করে ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায়। তাই আমাদের কর্মীদের কারো কারো এ বিষয়ে মনোযোগি হতে হবে দলীয় স্বার্থে। এতে তার দুদিকেই লাভ। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও বিল্ডআপ করা যাবে, সংগঠনের স্বার্থও হাছিল হবে। এটা হচ্ছে প্রথম ধাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে লেখাপড়া না করেও সাংবাদিক হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের মাধ্যমিক লেভেল থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি লেখালেখি চর্চা করতে হবে। যেমন- ছড়া-কবিতা, ছোট গল্প, বিভিন্ন  বিষয়ে ফিচার তৈরী, প্রতিবেদন তৈরী, বিশেষ করে আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের নিউজ তৈরীর অভ্যাস আপনাকে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ্য করে তুলবে। কলেজে পড়–য়া কর্মীদের যারা সদর কেন্দ্রীক বসবাস করে তাদেরকে অনুরোধ করবো স্থানীয় বা জাতীয় যেকোন দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে আপনারা চাইলে পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষানবীস সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারেন। আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে যে সকল সংবাদকর্মী সাংবাদিক তকমা লাগিয়ে প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জন করেছে তারা খুব বেশী লেখাপড়া করেছেন তা নয়। আমরা কেউ এ পেশা বেছে নিলে আমি মনে করি খুব অল্প সময়ে স্যাটেল হওয়া সম্ভব। এটা আপনার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সংগঠনের জন্যও বড় পাওনা হবে।
সাংগঠনিক নিউজ লেখার কৌশল ঃ সংগঠনের কোন একটি কর্মসূচি যখন ঘোষিত হয় তখন সে কর্মসূচিটি মিডিয়া কভারেজ করাটা খুবই জরুরী। তাই এক্ষেত্রে কর্মীসূচির পূর্ব-পর নিউজ তৈরী করে তা সংবাদ মাধ্যমে পৌঁছাতে হবে। যেমন আগামী ১২ জুলাই’১৪ ইং একটি ছাত্রসমাবেশ আছে। সে কর্মসূচির বাস্তবায়নের যেকোন প্রস্তুতি সভার নিউজ করে পত্রিকায় পাঠাতে হবে। ১২ জুলাইয়ের আগের দিন অর্থ্যাৎ ১১ জুলাই পত্রিকায় নিউজ পাঠাতে হবে এই শিরোনামে ‘আগামীকাল পটিয়ায় ছাত্রসেনার ছাত্রসমাবেশ’। ১১ জুলাইয়ের জন্য ১০ জুলাই পত্রিকায় নিউজ পাঠাতে হবে। যেদিন সমাবেশ সেদিন অর্থ্যাৎ ১২ জুলাইয়ের জন্য ১১ জুলাই পাঠাতে ‘ আজকের অনুষ্টান’ বিভাগে।
আজকের অনুষ্টানের জন্য পাঠানো একটি নিউজের নমুনা কপি-
‘আজকের অনুষ্টান’
আজ ১২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পটিয়া এ এস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা পটিয়া পৌরসভা শাখার উদ্যেগে এক ছাত্রসমাবেশ অনুষ্টিত হবে।
এতে সচেতন ছাত্রসমাজকে উপস্থিত থাকার জন্য ছাত্রসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ‘ অমুক ’ অনুরোধ জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক
স্বাক্ষর
( অমুক )
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা
পটিয়া পৌরসভা শাখা।


যেদিন প্রোগ্রাম অনুষ্টিত হবে সেদিন অনুষ্টানে আগত বক্তাদের বক্তব্য নোট করে অথবা যে লক্ষ্যে সমাবেশ তার বিষয়কে কেন্দ্র করে নিউজ তৈরী করতে হবে। এ কাজটি অনুষ্টানের পূর্বে তৈরী করে রাখতে পারলে ভালো । কেননা কোন সংবাদকর্মী প্রোগ্রামস্থলে গেলে যেন তাকে সংবাদবিজ্ঞপ্তিটি দিয়ে দেয়া যায়।
একটি নিউজ বা প্রেস রিলিজ তৈরী করতে কিছু বিষয়ের প্রতি খুবই লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন- নিউজটি সংগঠনের নিজস্ব প্যাডে লিখতে হবে, শীল, নমুনা স্বাক্ষর, নির্ভুল বানান, সুন্দর ও স্পষ্ট হস্তাক্ষর ( কম্পিউটার কম্পোজ সবচেয়ে ভালো) বক্তব্যে ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল, বক্তব্য অযাচিত দীর্ঘ না করা, মূল দাবী যুক্তিযুক্ত হওয়া ইত্যাদি। একটি আদর্শ ও পরিপূর্ণ সংবাদ তৈরীতে ৪টি W এর ব্যবহার অপরিহার্য্য।
W = When [ কখন]
W = Where [কোথায়]
W = What   [কি]
W = Who [কে]
অর্থ্যাৎ একটি অনুষ্টান কখন, কোথায়, কি বা কি উপলক্ষ্যে অনুষ্টিত হয়েছে এবং তাতে কে কে উপস্থিত ছিলেন ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ থাকা আবশ্যক। নচেৎ সংবাদের সার্থকতা ফুটে ওঠবে না বা একটি স্বয়ংসম্পুর্ণ সংবাদ হবেনা। এছাড়া নিউজের একটি আকর্ষনীয় শিরোনাম দিতে হবে। শিরোনামটি হবে নিউজের মূল বক্তব্যের সার সংক্ষেপ। যেমন নিচে একটি ছাত্রসমাবেশের নিউজের নমুনা কপি দেখানো হলো।


পটিয়ায় ছাত্রসেনার সমাবেশে বক্তরা
শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ৩০ ভাগ বরাদ্দ দিতে হবে

আজ ১০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পটিয়া এ এস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ইসলমাী ছাত্রসেনা পটিয়া পৌরসভা শাখার উদ্যোগে আগামী বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবীতে এক ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল সংগঠনের পৌরসভাপতি মুহাম্মদ বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ০০০০০০০০ [ পদবীসহ  নাম]। প্রধান বক্তা ছিলেন ০০০০০০০০ [পদবীসহ নাম]। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ০০০০০০০০০০০০০০০  [নাম ]
প্রধান অতিথি বলেন, ০০০০০০০০০ [শিরোনামের সাথে মিল রেখে সংক্ষেপে সমাবেশে মূল বক্তব্য তুলে ধরতে হবে ]
( সম্ভব হলে প্রধান বক্তার বক্তব্যও তুলে ধরা যায়।)
সমাবেশ শেষে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল পটিয়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বার্তা প্রেরক
স্বাক্ষর
( অমুক )
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা
পটিয়া পৌরসভা শাখা।

বি.দ্র. নিউজের সাথে ক্যাপসনসহ সংশ্লিষ্ট ছবিও দেয়া আছে।


( সমাবেশ শেষে পটিয়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিলের একাংশ)

অনলাইনে লেখালেখি ঃ বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের। আজকাল প্রাইমারি স্কুল পড়–য়া একজন ছেলেও ফেসবুক ব্যাবহার করে। ইন্টারনেটে বিভিন্ন বøগ তৈরী করে সেখানে বøগাররা তাদের মত প্রকাশ করছে। এখন তো কয়েক জনে মিলে অনলাইন পত্রিকাও পরিচালনা করেছ। এ রকম আমাদের কর্মীদের তৈরী একটি অনলাইন পত্রিকার নাম ি www.karnafulinews24.com
এভাবে আরো অনলাইন পত্রিকা তৈরী করা দরকার। আর তা করতে হবে আমাদের। বিশেষ করে ফেসবুকে সাংগঠনিক প্রচার চালানোটা খুবই সহজ্ এং তা আমাদের ছেলেরা করছেও।  তবে এ ক্ষেত্রে তথ্য নির্ভর , গ্রহণযোগ্য স্টাটাস বা মানসম্মত ছবি/ভিডিও আপলোট করতে হবে। প্রোগ্রাম চলাকালে যতদ্রæত অনুষ্টানের ছবি ক্যাপসন সহ দেয়া যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। যেকোন বিষয়ে মতামত বা প্রতিবাদ দৈনন্দিন দিতে হবে। মূল কথা হলো প্রযুক্তির এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে সংগঠনের প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখতে হবে।
ও হ্যাঁ, আরেকটি কথা, ইন্টারনেটের আরেকটি সামাজিক সাইট ইউটিউব। এ সাইটটিতে একাউন্ট খুলে যেকোন অনুষ্টানের ভিডিও আপলোট ডাউনলোট করা যায়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য বা বক্তব্যের অংশ বিশেষ মোবাইল বা ভিডিও ক্যামরার মাধ্যমে ভিডিও করে ইউটিউবে দেওয়াটা খুবই জরুরী। তাতে দেশ বিদেশেও আমাদের বক্তব্য পৌঁছে যাবে।
পরিশেষে সংগঠনের প্রচার প্রসারে মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধী করত: কর্মী ভাইয়েরা এদিকে এগিয়ে আসবেন সে প্রত্যাশা করে আজকের মতো শেষ করছি।

লতিফ সিদ্দিকী : আওয়ামী নাস্তিক্যের যথার্থ উদাহরণ

মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানি

আওয়ামী লীগের তথাকথিত সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্যও। টাঙ্গাইল ৪ আসন থেকে ০৫ জানুয়ারীর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের নির্বাচিত সাংসদ। গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ জন সফর সঙ্গীর মধ্যে তিনিও একজন। সেখানে সফরের ফাঁকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পালকি সেন্টারে টাঙ্গাইল জেলা সমিতি কর্তৃক তার সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে এ বিজ্ঞ (?) মন্ত্রী ইসলাম ধর্মের প্রবক্তা, বিশ্ব মুসলিমের প্রাণস্পন্দন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ্ব সম্পর্কে যে বেফাঁস ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্বভাবতই তাতে ঈমানদার মুসলমানরা চুপ করে বসে থাকতে পারেনা। ফলশ্রæতিতে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিভিন্ন ইসলামী দলসহ সাধারণ মুসলমানরা। তার নিজ দলের কোন কোন নেতাও তার এ অসলগ্ন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
মিডিয়ার খবরে প্রকাশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও তা কখন কার্যকর হবে বা অপসারণের সিদ্ধান্তটি আদৌ সত্যি কিনা তা আমরা জানিনা। ধরে নিলাম, আওয়ামী লীগ বা বর্তমান সরকার তাকে দল ও মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করলো, তাতেও কি তার এ দৃষ্টতাপূর্ণ জঘন্য বক্তব্যের শাস্তি হবে ? অন্তত পক্ষে দেশের সাধারণ মুসলমান তা মনে করেন না। ইসলামী পন্ডিত বা আলেম সমাজ তো মোটেও না। কারণ ইসলামে ধর্মত্যাগ করা, নিজ ধর্মের কোন বিধান অস্বীকার করা, আল্লাহ, নবী-রাসূলকে গালি দেওয়া বা তাদের প্রতি কটুক্তি করা অথবা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। ইসলাম এ ধরনের একজন ব্যক্তিকে মুরতাদ বলে ঘোষণা করেছে। আর মুরতাদের শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। তবে হ্যাঁ, তাকে তিনদিনের সময় দিতে হবে। তার দিলে ইসলামের ব্যাপারে কোন সন্দেহ সৃষ্টি হলে এর সমাধান দিতে হবে। এতে যদি তার বোঝে আসে এবং তাওবা করে মুসলমান হয় তবে ভাল, নতুবা তিনদিন পরে তাকে হত্যা করা হবে। এটা হচ্ছে ইসলামী বিধান। মন্ত্রী যেহেতু এরকম একটি অপরাধ করেছে, সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম দেশ হিসেবে এদেশের মুসলমান, আলেম-ওলামারা এই দাবী করতেই পারেন। এটা অযৌক্তিক নয়। যদিওবা আমাদের দেশে সে আইন নাই।
কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয়, এ ধর্মত্যাগী মন্ত্রী কোন বিষয় না বোঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে পরেরদিন বিবিসিকে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন তা ১০০ ভাগ ঠিক বলেছেন এবং বোঝে-শুনে বলেছেন। তিনি তার এ বক্তব্য প্রত্যাহারও করবেন না। তবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে তিনি তার সম্মানে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।
মন্ত্রীর এ বক্তব্যে প্রমাণ করে, তিনি মুসলমান হিসেবে আল্লাহ তায়ালাকে মানেন না, দলীয় প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে মানেন। তাই তিনি তার মুসলমানিত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষা করছেন। তার কাছে ধর্ম বড় নয়, দল বড়। আল্লাহ বড় নয়, শেখ হাসিনা বড়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনা কি তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য বলবেন ? নাকি সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর মতো তিনিও বলবেন- “মুখফোঁড়রা অনেক কথা বলে। এটা তাদের স্বাধীনতা।” 
তবে শেখ হাসিনা কিছু বলুক আর নাই বলুক, সাজেদার কথার ইশারায় বুঝা যায় আওয়ামী লীগের চরিত্র কেমন। কেননা আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আড়ালে যে ইসলাম বিদ্বেষী আচরণ করে তা অতীতেও অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। এখন নতুন করে লতিফ সিদ্দিকীর মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণ হলো। কিছুদিন আগেও আওয়ামী সরকারের আরেক মন্ত্রী মহসিন আলী মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চরম বিষোদগারমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। জাতীয় শিক্ষা নীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকুচিত করা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যসহ নাস্তিক ইনু-মেননদের প্রেসক্রিপশনে দেশ চালানোর মতো জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষী কাজ এ আওয়ামী সরকার করে যাচ্ছে। 
এ আওয়ামী সরকারইতো অনলাইনে ইসলাম বিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করা নাস্তিক বøগারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। কেউ ইসলামের পক্ষে কথা বললে বা লিখলে তাদেরকে তারা মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক বা জঙ্গি হিসেবে কটাক্ষ করে। ধর্মীয় রাজনীতিকে জঙ্গীবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ তারা একটি বারও চিন্তা করেনা, যদি এদেশে মুজিবীয় বা জিয়ায়ী রাজনীতি করা যায় তাহলে কেন ধর্মীয় রাজনীতি করা যাবেনা ? ইসলাম ধর্মে যদি রাজনীতির কথা থাকে তাহলে কেন একজন মুসলমান ইসলামী বা ধর্মীয় রাজনীতি করতে পারবেন না। কোন ধর্মে যদি রাজনীতি করার কথা বলে, আর যদি কোন দেশ সে রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে সেটা কি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বাঁধা দেয় না ? বা হরণ করে না ?
৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টায় একাত্তর টিভির টক শোতে মানিক নামে এক আলোচক সাংবাদিক ( লতিফের ভাষায় টকমারানি ) বারবার বলতে চাইছে, “মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারে, সেটা হয়তো কারো মনে আঘাত লেগেছে তাই  বলে তার শাস্তি চাওয়া বা ফাঁসি চাওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। কোন ব্যক্তি এরকম চাইতেই পারেনা। এটা ব্যক্তির অধিকারকে ক্ষুন্ন করে। ” এ আলোচকের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, কিছু দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের যদি বিচার হয় বা কোন ব্যক্তিকে মানহানি করে কোন কথা বললে সে যদি ঐ ব্যক্তির বিরোদ্ধে মানহানি হামলা করতে পারে, তার বিচার হয়, তাহলে পৃথিবীর ১৫০ কোটি মুসলমানের পবিত্র বিশ্বাসকে যে তুড়ি মেরে ওড়িয়ে দেয়, চরমভাবে আঘাত করে সেটা কি তেমন কিছু নয় ? 
আপনার মতো টকশোওয়ালাদের যে, সে টকমারানি বললো, সেটা ঐ টক শো ওয়ালাদের গায়ে লাগবে না, যার গা গন্ডারের চামড়ার মতো। আর যার সামান্যতম আতœসম্মানবোধ আছে সে নিশ্চই বিব্রত হবে। তাইতো ঐ টকশো‘র আরেক আলোচক ভদ্রলোক বারবার করে বলছে, “এটা মন্ত্রীর জঘন্যতম দৃষ্টতা। এরকম কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা যায় না। এটা কোন স্বাধীনতা নয়। এ রকম মতামত প্রকাশ্যে প্রদান করা যায় না। কেউ এরকম করলে জনগণ তার শাস্তি চাইতেই পারে।”
সত্যি বলতে কি, এদেশটা এখন আস্তিক ও নাস্তিক এ দুধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নাস্তিকরা সংখ্যায় নগন্য হলেও তারা সরলমনা আস্তিকদের ঘাড়ে চড়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কারণ তারা জানে অলি-আল্লাহর এদেশে সহজেই সরলমনা মুসলমানদেরকে কাছে টেনে ক্ষমতার স্বাদ নেয়া যাবেনা। পারবেনা মুসলমানদের ঈমান কেড়ে নিতে বা নাস্তিক  বানাতে। তাই তারা চলচাতুরীর মাধ্যমে, কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে, সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতার মসনদ দখল করে এভাবেই ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে তারা ইসলামকে উৎখাত করতে চাইছে। অথচ তারা জানেনা, ইসলাম কারো ফুৎকারে নিভে যাওয়ার ধর্ম নয়। 
সুতারাং অলী-আল্লাহর এদেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা এত সহজ হবেনা। কারণ নবী-অলীর উত্তরসূরীরা এখনো এদেশে আছেন। তাইতো লতিফ সিদ্দিকী তার এ মনোভাব এদেশে ব্যক্ত করতে না পেরে বেঁচে নিয়েছেন ইসলাম বিদ্বেষী দেশ আমেরিকাকে। তিনি বিবিসির ঐ স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, “আমি বাংলাদেশে বসে এ মন্তব্য করিনি। আমি ভাবছিলাম মুক্ত পৃথিবীতে আসছি, এখানে সবাই মুক্ত বিহঙ্গ, কোন কিছুতেই বাঁধা নেই।”
তাই যদি হয়, তাহলে মন্ত্রীর উচিৎ আর এদেশে না এসে আমিরাকায় থেকে যাওয়া। কারণ এদেশ মুক্ত বিহঙ্গের দেশ নয়, এদেশ শাহজালালের দেশ, শাহ আমানতের দেশ, এদেশ অলি-আল্লাহর বাংলাদেশ। এদেশে কোন নাস্তিকের ঠাঁই নাই। বেহায়া, নির্লজ্জ তাসলিমা নাসরিনকে এদেশের মানুষ বের করে দিয়েছে, বের করে দিয়েছে দাউদ হায়দারকে। সে কথা কি আপনার মনে নাই।  সুতরাং এদেশে পা না দেয়ায় আপনার ভালো। 
আর তিনি আসলে সরকারের উচিৎ হবে, এ দুপায়া জানোয়রকে খাঁচায় পুড়ে তিলে তিলে মারা। নয়তো মুসলমানদের অন্তরে যে আগুন জ্বলছে সে আগুনে আওয়ামী তখ্ত পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। আর নাস্তিক্যবাদ তো ভস্মিভুত হয়ে ছাইয়ে পরিণত হবেই।

সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষকের ভূমিকায় শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি


মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানী*


২০০২ সালে যখন শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি শুরু হয় তখন হাতেগুনা মাত্র কয়েকটি বৃত্তি পরীক্ষা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চালু ছিল। অনেক এলাকায় তো সরকারী বৃত্তি পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বৃত্তি পরীক্ষা নিতে পারে তা বিশ^াসই করত না। কালেরপরিক্রমায় সেই বৃত্তি পরীক্ষা এখন তীব্র প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। পাড়ার সংগঠন থেকে শুরু করে হঠাৎ পয়সাওয়ালা হওয়া ব্যক্তিরাও একটু নিজের নাম কুড়াতে নামে বেনামে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করছে। আবার অনেকেই বৃত্তি পরীক্ষার অন্তরালে ব্যবসাও করে যাচ্ছে।
প্রত্যেক ভালো কিছুর বিপরীতে মন্দ লোকের মন্দ চিন্তাভাবনাও কাজ করে। তারা চায়, এই ভালোটাকে ব্যবহার করে দু’চার পয়সা কামিয়ে নিতে। তাই বলে ভালো কোন পদক্ষেপ বা কর্মকান্ডকে ঐ মন্দ কর্মকান্ডের সাথে এক করে তা বন্ধ করে দেয়া সঠিক বিচার নয়। 
ইদানিং একটি কুচক্রীমহল ‘ধান্দাবাজ বৃত্তি পরীক্ষা’ গুলোর সাথে দেশের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে পুরনো বেসরকারী বৃত্তি ‘শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা’কে জড়িয়ে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, “বৃত্তির নাম দিয়ে এরা ব্যবসা করছে”। আসলে কি তাই? নাকি সারাদেশে হালিম-লিয়কাত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার অভাবনীয় সাফল্য ও অবদান দেখে ঈর্ষাণিত হয়ে এর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে? এ ষড়যন্ত্রকারী কুচক্রীমহলকে কি করে বুঝায় যে, টাকার আয়-ব্যয়ের লাভ-ঘাটতির চেয়ে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে প্রেরণা এই হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি যুগাচ্ছে তা টাকার অঙ্কে হিসাব করা যাবেনা। তবুও তাদেরকে আমাদের প্রতিটি উপজেলায় বৃত্তি কমিটির সাথে মুখোমুখি বসে আয়-ব্যয়ের ফারাক দেখার অনুরোধ রইল। আর সত্যিকারের লাভের হিসাব যদি দিই- তাহলে তাদেরকে এ্যরিস্টটলের কাছে নিয়ে যেতেই হয়।
আমরা জানি, শিক্ষক তারা যারা শিক্ষার্থীদের পড়ান বা জ্ঞান দান করেন। শিক্ষা গ্রহণ ব্যতিরেখে কেউ শিক্ষিত হতে পারেনা। যদিও এর ব্যতিক্রম নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে আছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে কারো কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তবুও তিনি ছিলেন জ্ঞানের শহর। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জ্ঞানের শহর, আলী ঐ শহরের দরজা’। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষক হয়েই দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েছি’। লেখা-পড়া না শিখে শিক্ষক বা জ্ঞানের শহর হওয়া এটা আমাদের নবীজির জন্য সম্ভব হলেও সবার জন্য এরূপ নয়। আমাদেরকে শিক্ষকের কাছ থেকে শিখেই শিক্ষিত হতে হয়েছে। এজন্যই পৃথিব্যাপী শিক্ষালয় বা বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজন অনুসারে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে আর শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করে থাকে। এই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ভালো শিক্ষক’ হিসেবে সমাদৃত। ভালো শিক্ষক কে? এই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীদের ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই এ উত্তর দিবে যে, যিনি শ্রেণিতে ভালো পাঠদান করেন তিনিই ভালো শিক্ষক। কিন্তু এ্যরিস্টটল বলছে, যিনি ভালো পড়ান তিনি ভালো শিক্ষক বটে, সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষক নন। তিনি শিক্ষকদের চার শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। তাঁর মতে, “১। সেই হলো ‘ভালো শিক্ষক’ যিনি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পড়ায়। ২। সেই হলো ‘অপেক্ষাকৃত ভালো শিক্ষক’ যে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পড়ায় ও লেখায়। ৩। সেই হলো ‘সবচেয়ে ভালো শিক্ষক’ যে শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের পড়ায়, লেখায় ও টীকা টিপ্পনী করে দেয়। ৪। আর সেই হলো ‘সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষক’ যে এর কোনটিই করে না কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে।”
তাহলে যে শিক্ষক পড়ায়না, লেখায়না, নোট বা টীকা টিপ্পনীও করে দেয়না তিনিই হলেন সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষক। এখানেই ‘শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা’ সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। কারণ এ বৃত্তি পরীক্ষা কোন শিক্ষার্থীকে পড়ায়না, লেখায়না, এমনকি নোট বা টীকা টিপ্পনীও করে দেয় না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সিলেবাসের মধ্য থেকে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে ১০০ নম্বরের একটা পরীক্ষা নেয় আর তার নিখুত মূল্যায়নের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিয়ে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাদেরকে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের গুণীজনদের মাধ্যমে সনদ বা ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করে। সে অনুষ্ঠানে গুণীজনরা তাদের ব্যক্তিগত অর্জনের কথা ও সফল হওয়ার প্রেরণার কথা তাদেরকে শুনায়। এতে শিক্ষার্থীরা খুবই গর্ববোধ করেন ও দারুণ অনুপ্রাণিত হয়। বিশাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সনদ বা ক্রেস্ট গ্রহণ করা বা পুরস্কার নেয়া একজন শিক্ষার্থীকে কত বেশী অনুপ্রাণিত করে, জীবনের গতিপথকে পাল্টে দেয় তা ঐ শিক্ষার্থী ও তার গর্বিত অভিাভাবকরাই ভালো অনুধাবন করতে পারেন। তবে আমরা অনুষ্ঠানে থেকে তাদের চিক্চিক্ করা উদ্ভাসিত মুখখানা দেখে অনুধাবন করতে পারি যে, আজ তারা কত খুশি, কত অনুপ্রাণিত। যখন তাদের অনুভুতির কথা জানতে চাই, তখন তারা অকপটেই বলে থাকে, ‘আমরা এই বৃত্তি পেয়ে যে সনদ বা স্বীকৃতি পেয়েছি তাতে দারুণ খুশি, তবে আমরা সফলতার যে সিঁড়ি হালিম-লিয়াকতের পথ ধরে পেয়েছি সেটি ধরেই সফলতা স্বর্ণ চুড়ায় পৌঁছতে চায়।” তখন আমি ভাবি, একজন শিক্ষক একটি অঙ্ক শেখাতে বা ইংরেজী, বিজ্ঞান বা অন্যান্য বিষয়ের পড়া শেখাতে কত চেষ্টাই না করে থাকে, কিন্তু ঐ শিক্ষার্থীর কাছে লেখা-পড়া ‘বিষ’ মনে হয়। আর এখন একটি মাত্র কাগজের সনদ বা প্লাস্টিকের ক্রেস্ট তার জীবনের গতিপথকেই পাল্টে দিয়েছে। কত বড় শিক্ষকের ভূমিকায় না পালন করেছে শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি।
সক্রেটিসও এই কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার ছাত্রদের শেখায় না, আমি তাদের শিখতে উদ্বুদ্ধ করি।’  সক্রেটিসের কথার সুত্রধরে আমরাও বলতে পারি ‘শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি’ কোন শিক্ষার্থীকে পড়ায়না বা শেখায়না বটে তাদেরকে বৃত্তির প্রদান করে এবং অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মুখোমুখি করে তার শিক্ষা জীবনকে উদ্বুদ্ধ বা অনুপ্রাণিত করে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, সবাইকে তো বৃত্তি দেয়া হয়না বা পুরস্কৃত করা হয়না। তাহলে তারা? আমি তাদের বলব, যারা বৃত্তি পায় না, তারা হতাশ হওয়ার পরিবর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় যে, এবার পারিনি আগামীবার অবশ্যই পারব। এই বৃত্তি পাইনি তো অন্য বৃত্তি অবশ্যই পেতে হবে। এভাবে তারা অনুপ্রাণিত হয়।
সবশেষে  এটাই দৃঢ় প্রত্যয়ে বলতে চাই, ‘শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি’ কোন ব্যবসা করার জন্য গঠিত হয়নি। যারা এ বৃত্তি পরীক্ষা দেশব্যাপি আয়োজন করছে তারা সবাই দেশপ্রেমিক ছাত্র-শিক্ষক-সংগঠন। সরাকারের পাশাপাশি শিক্ষাখাতে অবদান রাখার উদ্দ্যেশে এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন। আমরা মনে করি, শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়া সরকারের একার দ্বারা সম্ভব নয়, সকল সচেতন নাগরিককে সরকারের সহযোগীতা করা উচিৎ। এ নৈতিকতাবোধ থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে উদ্বুদ্ধ বা অনুপ্রাণিত করে দেশের শিক্ষার হার বাড়ানো বা মেধার বিকাশ করার জন্য আমাদের পথচলা। আশা করি আমাদের আগামীর পথচলা আরো মসৃণ ও কন্টকমুক্ত হবে। আর এ মহৎ কাজে দেশপ্রেমিক বিত্তবান-শিক্ষাবীদ-বুদ্ধিজীবি-ছাত্র-শিক্ষক-অভিাভাবকদের বরাবরের মতোই পাশে পাবো ইনশাআল্লাহ।

* মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানী, কেন্দ্রীয় সচিব, শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরিচালনা কমিটি।

ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...