মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন রব্বানি
আওয়ামী লীগের তথাকথিত সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্যও। টাঙ্গাইল ৪ আসন থেকে ০৫ জানুয়ারীর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের নির্বাচিত সাংসদ। গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ জন সফর সঙ্গীর মধ্যে তিনিও একজন। সেখানে সফরের ফাঁকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পালকি সেন্টারে টাঙ্গাইল জেলা সমিতি কর্তৃক তার সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে এ বিজ্ঞ (?) মন্ত্রী ইসলাম ধর্মের প্রবক্তা, বিশ্ব মুসলিমের প্রাণস্পন্দন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ্ব সম্পর্কে যে বেফাঁস ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্বভাবতই তাতে ঈমানদার মুসলমানরা চুপ করে বসে থাকতে পারেনা। ফলশ্রæতিতে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিভিন্ন ইসলামী দলসহ সাধারণ মুসলমানরা। তার নিজ দলের কোন কোন নেতাও তার এ অসলগ্ন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
মিডিয়ার খবরে প্রকাশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও তা কখন কার্যকর হবে বা অপসারণের সিদ্ধান্তটি আদৌ সত্যি কিনা তা আমরা জানিনা। ধরে নিলাম, আওয়ামী লীগ বা বর্তমান সরকার তাকে দল ও মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করলো, তাতেও কি তার এ দৃষ্টতাপূর্ণ জঘন্য বক্তব্যের শাস্তি হবে ? অন্তত পক্ষে দেশের সাধারণ মুসলমান তা মনে করেন না। ইসলামী পন্ডিত বা আলেম সমাজ তো মোটেও না। কারণ ইসলামে ধর্মত্যাগ করা, নিজ ধর্মের কোন বিধান অস্বীকার করা, আল্লাহ, নবী-রাসূলকে গালি দেওয়া বা তাদের প্রতি কটুক্তি করা অথবা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। ইসলাম এ ধরনের একজন ব্যক্তিকে মুরতাদ বলে ঘোষণা করেছে। আর মুরতাদের শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। তবে হ্যাঁ, তাকে তিনদিনের সময় দিতে হবে। তার দিলে ইসলামের ব্যাপারে কোন সন্দেহ সৃষ্টি হলে এর সমাধান দিতে হবে। এতে যদি তার বোঝে আসে এবং তাওবা করে মুসলমান হয় তবে ভাল, নতুবা তিনদিন পরে তাকে হত্যা করা হবে। এটা হচ্ছে ইসলামী বিধান। মন্ত্রী যেহেতু এরকম একটি অপরাধ করেছে, সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম দেশ হিসেবে এদেশের মুসলমান, আলেম-ওলামারা এই দাবী করতেই পারেন। এটা অযৌক্তিক নয়। যদিওবা আমাদের দেশে সে আইন নাই।
কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয়, এ ধর্মত্যাগী মন্ত্রী কোন বিষয় না বোঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে পরেরদিন বিবিসিকে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন তা ১০০ ভাগ ঠিক বলেছেন এবং বোঝে-শুনে বলেছেন। তিনি তার এ বক্তব্য প্রত্যাহারও করবেন না। তবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে তিনি তার সম্মানে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।
মন্ত্রীর এ বক্তব্যে প্রমাণ করে, তিনি মুসলমান হিসেবে আল্লাহ তায়ালাকে মানেন না, দলীয় প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে মানেন। তাই তিনি তার মুসলমানিত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষা করছেন। তার কাছে ধর্ম বড় নয়, দল বড়। আল্লাহ বড় নয়, শেখ হাসিনা বড়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনা কি তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য বলবেন ? নাকি সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর মতো তিনিও বলবেন- “মুখফোঁড়রা অনেক কথা বলে। এটা তাদের স্বাধীনতা।”
তবে শেখ হাসিনা কিছু বলুক আর নাই বলুক, সাজেদার কথার ইশারায় বুঝা যায় আওয়ামী লীগের চরিত্র কেমন। কেননা আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আড়ালে যে ইসলাম বিদ্বেষী আচরণ করে তা অতীতেও অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। এখন নতুন করে লতিফ সিদ্দিকীর মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণ হলো। কিছুদিন আগেও আওয়ামী সরকারের আরেক মন্ত্রী মহসিন আলী মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চরম বিষোদগারমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। জাতীয় শিক্ষা নীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকুচিত করা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যসহ নাস্তিক ইনু-মেননদের প্রেসক্রিপশনে দেশ চালানোর মতো জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষী কাজ এ আওয়ামী সরকার করে যাচ্ছে।
এ আওয়ামী সরকারইতো অনলাইনে ইসলাম বিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করা নাস্তিক বøগারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। কেউ ইসলামের পক্ষে কথা বললে বা লিখলে তাদেরকে তারা মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক বা জঙ্গি হিসেবে কটাক্ষ করে। ধর্মীয় রাজনীতিকে জঙ্গীবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ তারা একটি বারও চিন্তা করেনা, যদি এদেশে মুজিবীয় বা জিয়ায়ী রাজনীতি করা যায় তাহলে কেন ধর্মীয় রাজনীতি করা যাবেনা ? ইসলাম ধর্মে যদি রাজনীতির কথা থাকে তাহলে কেন একজন মুসলমান ইসলামী বা ধর্মীয় রাজনীতি করতে পারবেন না। কোন ধর্মে যদি রাজনীতি করার কথা বলে, আর যদি কোন দেশ সে রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে সেটা কি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বাঁধা দেয় না ? বা হরণ করে না ?
৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টায় একাত্তর টিভির টক শোতে মানিক নামে এক আলোচক সাংবাদিক ( লতিফের ভাষায় টকমারানি ) বারবার বলতে চাইছে, “মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারে, সেটা হয়তো কারো মনে আঘাত লেগেছে তাই বলে তার শাস্তি চাওয়া বা ফাঁসি চাওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। কোন ব্যক্তি এরকম চাইতেই পারেনা। এটা ব্যক্তির অধিকারকে ক্ষুন্ন করে। ” এ আলোচকের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, কিছু দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের যদি বিচার হয় বা কোন ব্যক্তিকে মানহানি করে কোন কথা বললে সে যদি ঐ ব্যক্তির বিরোদ্ধে মানহানি হামলা করতে পারে, তার বিচার হয়, তাহলে পৃথিবীর ১৫০ কোটি মুসলমানের পবিত্র বিশ্বাসকে যে তুড়ি মেরে ওড়িয়ে দেয়, চরমভাবে আঘাত করে সেটা কি তেমন কিছু নয় ?
আপনার মতো টকশোওয়ালাদের যে, সে টকমারানি বললো, সেটা ঐ টক শো ওয়ালাদের গায়ে লাগবে না, যার গা গন্ডারের চামড়ার মতো। আর যার সামান্যতম আতœসম্মানবোধ আছে সে নিশ্চই বিব্রত হবে। তাইতো ঐ টকশো‘র আরেক আলোচক ভদ্রলোক বারবার করে বলছে, “এটা মন্ত্রীর জঘন্যতম দৃষ্টতা। এরকম কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা যায় না। এটা কোন স্বাধীনতা নয়। এ রকম মতামত প্রকাশ্যে প্রদান করা যায় না। কেউ এরকম করলে জনগণ তার শাস্তি চাইতেই পারে।”
সত্যি বলতে কি, এদেশটা এখন আস্তিক ও নাস্তিক এ দুধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নাস্তিকরা সংখ্যায় নগন্য হলেও তারা সরলমনা আস্তিকদের ঘাড়ে চড়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কারণ তারা জানে অলি-আল্লাহর এদেশে সহজেই সরলমনা মুসলমানদেরকে কাছে টেনে ক্ষমতার স্বাদ নেয়া যাবেনা। পারবেনা মুসলমানদের ঈমান কেড়ে নিতে বা নাস্তিক বানাতে। তাই তারা চলচাতুরীর মাধ্যমে, কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে, সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতার মসনদ দখল করে এভাবেই ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে তারা ইসলামকে উৎখাত করতে চাইছে। অথচ তারা জানেনা, ইসলাম কারো ফুৎকারে নিভে যাওয়ার ধর্ম নয়।
সুতারাং অলী-আল্লাহর এদেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা এত সহজ হবেনা। কারণ নবী-অলীর উত্তরসূরীরা এখনো এদেশে আছেন। তাইতো লতিফ সিদ্দিকী তার এ মনোভাব এদেশে ব্যক্ত করতে না পেরে বেঁচে নিয়েছেন ইসলাম বিদ্বেষী দেশ আমেরিকাকে। তিনি বিবিসির ঐ স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, “আমি বাংলাদেশে বসে এ মন্তব্য করিনি। আমি ভাবছিলাম মুক্ত পৃথিবীতে আসছি, এখানে সবাই মুক্ত বিহঙ্গ, কোন কিছুতেই বাঁধা নেই।”
তাই যদি হয়, তাহলে মন্ত্রীর উচিৎ আর এদেশে না এসে আমিরাকায় থেকে যাওয়া। কারণ এদেশ মুক্ত বিহঙ্গের দেশ নয়, এদেশ শাহজালালের দেশ, শাহ আমানতের দেশ, এদেশ অলি-আল্লাহর বাংলাদেশ। এদেশে কোন নাস্তিকের ঠাঁই নাই। বেহায়া, নির্লজ্জ তাসলিমা নাসরিনকে এদেশের মানুষ বের করে দিয়েছে, বের করে দিয়েছে দাউদ হায়দারকে। সে কথা কি আপনার মনে নাই। সুতরাং এদেশে পা না দেয়ায় আপনার ভালো।
আর তিনি আসলে সরকারের উচিৎ হবে, এ দুপায়া জানোয়রকে খাঁচায় পুড়ে তিলে তিলে মারা। নয়তো মুসলমানদের অন্তরে যে আগুন জ্বলছে সে আগুনে আওয়ামী তখ্ত পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। আর নাস্তিক্যবাদ তো ভস্মিভুত হয়ে ছাইয়ে পরিণত হবেই।
No comments:
Post a Comment