Saturday, 4 July 2020

আমাদের ইমরোজ ৩৮তম বিসিএসে সেরাদের সেরাঃ মাদরাসায় পড়েও সেরা হওয়া যায় ।






কাজ করছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তা হিসেবে। তার আগেই ২০১৭ সালে দিয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষা— সেটাই প্রথম ও একমাত্র। তাতেই একেবারে সাফল্যের চূড়ায় উঠে গেলেন। সারাদেশে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম স্থানে যার নামটি জ্বলজ্বল করছে, তিনি চট্টগ্রামেরই ছেলে। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে হয়েছেন সেরাদের সেরা।
সারাদেশে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়া গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন নিজেও ভাবতে পারেননি এমন অভাবনীয় ফল তিনি পাবেন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের কাছে অনুভূতি জানিয়ে ইমরোজ বললেন, ‘বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া ৩৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। সত্যিই এটা অন্যরকম অনুভূতি। তিন-চার বছর টানা পরিশ্রমের পর এমন ফলাফল পেয়ে খুব ভাল লাগছে।’
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী এলাকার গাজী পাড়ার সন্তান গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখায় প্রভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে পা দেন ২০১৯ সালে। এর দুই বছর আগে দেওয়া বিসিএস পরীক্ষার ফল বের হল মঙ্গলবার (৩০ জুন)। ৩৮তম এই বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বিসিএসে এই সাফল্যের পেছনে পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ইমরোজ। তার প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস তার বাবা-মা। বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস। মা নুর আয়েশা বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। ছোট দুই বোন বিবাহিত, ছোট ভাই কোরআনে হাফেজ ।
গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন পটিয়ার শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে গোল্ডেন-এ প্লাস পেয়ে দাখিল এবং একই মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে মানবিক বিভাগে এ প্লাস পেয়ে আলিম পাশ করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
ইমরোজ বলেন, ‘আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কম্প্রোমাইজ করতাম না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতাম।’
পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় দায়িত্বটা একটু বেশিই ছিল ইমরোজের। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ইমরোজের লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্কলার হয়ে দ্বীনের সেবা করা। পড়ালেখায় বাবা-মা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়। ইমরোজ বিসিএসের পড়াশোনা করেছেন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত। পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিসিএসের জন্য যা কিছু করেছি, সবকিছুই নিজে নিজে। মানুষের নেতিবাচক কথাগুলো আমি সবসময়ই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। তবে আমার বাবা-মা অনেক সহযোগিতা করেছেন।’
ইমরোজ বলেন, ‘৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি যেন প্রশাসন ক্যাডারে যাই। কিন্তু আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল শিক্ষা ক্যাডার।’
তিনি বলেন, ‘যদিও বাবা-মায়ের কথা রাখতে গিয়ে ফরমে প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার দিয়ে দ্বিতীয় পছন্দ দিয়েছিলাম শিক্ষা ক্যাডার। আমি মনে করি, প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডারের চাকুরেরা তাদের কাজের বাইরে কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক তার মনের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজে লাগাতে পারেন এবং অনেক মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন। মানুষ গড়ার কারিগরের এমন পেশায় যুক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’
ইমরোজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল সবসময়। আমি নিজে দেখেছি সারা রাত জেগে থেকে পড়াশোনা করেছে। অবশেষে কষ্টের ফল পেয়েছে সে।’
তার গৃহিণী মা নুর আয়েশা বেগম বলেন,‘ ভালোভাবে পড়াশোনা করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বিসিএস ক্যাডার হতে পারে। প্রতিবারই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএসে উত্তীর্ণ হচ্ছে। আমার ছেলে ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী। ইসলামী শিক্ষায়ও সমানভাবে পারদর্শী। তার এই সাফল্যে আমি মা হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।’

#রিপোর্টটি  চট্টগ্রাম প্রতিদিন থেকে কপিকৃত।  

নানা ধর্মের অনুসারী পৃথিবীর বহু বিখ্যাত মনীষী ধর্ম হিসেবে ইসলাম এবং এর প্রাণপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (দ.) সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ ও মূল্যবান কথা বলেছেন। আসুন এর কয়েকটি আমরা জেনে নিই :


বিশ্বখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ : যদি আগামী একশ বছরের মধ্যে শুধু ইংল্যান্ড নয়, সারা ইউরোপকে শাসন করার সম্ভাবনা কোনো ধর্মের থেকে থাকে, তাহলে সে ধর্ম হবে শুধু ইসলাম। আমি সবসময় মুহাম্মাদ (সা.)-এর ধর্ম সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে এসেছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য।
আমার মনে হয়, ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা জীবনের পরিবর্তিত ধাপের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই কারণেই প্রতিটি যুগেই এর আবেদন রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যদি মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো একজন মানুষ আধুনিক বিশ্বের একনায়কের পদ অধিকার করতেন, তাহলে তিনি এমন সাফ্যলের সঙ্গে এর সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারতেন যা এর জন্য প্রয়োজনীয় সুখ ও শান্তি বয়ে আনত । (Genuine Islam, vol.-1)

ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টি : পৃথিবীর সব ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই পেরেছিল জাত ও বর্ণের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে। (History of the Arabs, page 3)

মানবতাবাদী এম. এন. রায় : ইসলামের অসাধারণ সাফল্যের মূলে আছে এর বৈপ্লবিক তাৎপর্য । ইসলামই প্রথম সামাজিক সাম্য প্রবর্তন করেছিল যা সমস্ত দেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে তখনও অজানা ছিল । (The Historical Role of Islam)

অহিংসবাদী মহাত্মা গান্ধী : মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন একজন মহান পয়গম্বর । তিনি সাহসী ছিলেন এবং আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না । তিনি কখনও এক কথা বলে অন্য কাজ করতেন না। এই পয়গম্বর ছিলেন ফকিরের মতো । তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে প্রচুর সম্পদ করতে পারতেন । আমি যখন তাঁর দুঃখের কাহিনী পড়ি তখন আমার চোখ দিয়ে কান্না ঝরে পড়ে। তিনি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীরা স্বেচ্ছায় কতই না কষ্ট ভোগ করেছিলেন। তাই আমার মতো একজন সত্যাগ্রহী তাঁর মতো মানুষকে শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারে না । যিনি তাঁর মনকে নিবদ্ধ রেখেছিলেন এক আল্লাহর প্রতি এবং তিনি চিরকাল হেঁটেছেন আল্লাহ ভীরুতার পথে। মানব জাতির প্রতি তাঁর সহানুভূতি ছিল সীমাহীন। (Islam and its holy prophet as judged by the Non Muslim world, page- 20)

ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...