Thursday, 25 June 2020

করোনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ: গবেষণা

গত ২৫/৬/২০২০খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের এক রিপোর্টে  ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার
ফল তুলে ধরা হয় বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিআইজিডির গবেষণায় বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়। আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার।
যদিও মনে হতে পারে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বাড়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি।
গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় পড়াশোনার সময় কমার বিপরীতে বেড়েছে শিশু শ্রমের হার।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এই তথ্যগুলো, গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। শহরের বস্তি এলাকাও চিত্রটা মোটামুটি একইরকম।
বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কম্যুনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। মহামারি সৃষ্ট অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে কিংবা, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। কম্যুনিটি-নির্ভর বহুমাত্রিক পদক্ষেপ যা এনজিওগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে সরকারী নীতিকে আমলে নিতে হবে। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা বাধাগুলোকে এভাবেই অপসারণ করা প্রয়োজন।
গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুদের পড়াশুনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন পরিবারের কাজের পেছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য-বাস্তবে, স্কুল বন্ধ হওয়ায় ছয় ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করব।’
করোনা প্রাদুর্ভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কবে থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এই সময়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব ও অনলাইনে পাঠগ্রহণের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কীভাবে মানিয়ে নিতে পারছে তা দেখতে এই গবেষণাটি করেছে বিআইজিডি।
মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা বাংলাদেশের শহরের বস্তি ও গ্রাম এলাকার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণাটি করেছেন।

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে দাফন ও্ সৎকারে দৃষ্টান্ত গাউসিয়া কমিটি

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় মারা যান রাউজান পৌর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ নাসির (৪৫)। গভীর রাতে ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ গ্রামে নিয়ে আসেন স্ত্রী। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা কেউ ঘর থেকে বের হননি। খবর দেওয়া হলে জানাজা পড়ানোর ভয়ে মসজিদের ইমামও পালিয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হলে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ দাফনে ছুটে আসেন গাউসিয়া কমিটি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক। সকালে তাঁরা লাশ গোসলের পর কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে দাফন করেন। গত ২৯ মের ঘটনা এটি।
১১ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া (৬৭) নামের এক বৌদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয় গাউসিয়া কমিটির। লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো, গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের সব কাজ করেন এই সংগঠনের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া শাখার কর্মীরা।ধর্ম–বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এভাবে দিন–রাত করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন ও সৎকারে ছুটে চলেন তাঁরা। করোনাসংকট শুরু হওয়ার পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগঠনটি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৩ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষসহ ৩৩২টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে। এর মধ্যে করোনা রোগী ছিলেন ১৫০ জন। বাকিদের উপসর্গ ছিল। সবচেয়ে বেশি ২৩৭ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। ঢাকায় হয়েছে ৫১ জন। এ ছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাটেও লাশ দাফন করেন তাঁরা।সংগঠন সূত্র জানা যায়, করোনাসংকটের শুরুতে সংগঠনটির কর্মীরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লাশ দাফনকাজের প্রশিক্ষণ নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে সুরক্ষা পোশাক পরে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির কোনো স্বেচ্ছাসেবী করোনায় আক্রান্ত হননি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, লাশ দাফন ছাড়াও বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে তারা। গত রমজানে এক লাখ পরিবারে ত্রাণ বিতরণও করে। এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ান বাজারের দিদার মার্কেটে। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এই গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানে দেশে ২০০–এর বেশি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সচিব শাহজাদ ইবনে দিদার জানান, সারা দেশে এই সংগঠন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ করে। দেশের ৫০ জেলায় রয়েছে তাঁদের সংগঠনের বিস্তার। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই সংগঠনের প্রায় ৭০০ কর্মী করোনায় মৃতদের দাফনে কাজ করছেন।
লাশ দাফনকাজের সমন্বয় কমিটির প্রধান মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে লাশের জানাজা পড়ানোর জন্য ইমামও পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে বাংলা শিক্ষিত হয়েও তাঁকে ইমামতি করতে হয়েছে। অনেক সময় পিপিই সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি মনে করেন, সরকারিভাবে আরও সহযোগিতা পেলে সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারবেন।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে তমাল বড়ুয়া বলেন, তাঁর বাবার লাশ গোসল ও শেষকৃত্যের সব কাজ করেন গাউসিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁদের এই সহযোগিতা তাঁর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইফা'র সাবেক ডিজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজালের ইন্তেকালঃ গভীর শোক প্রকাশ

ইসলামকি ফাউন্ডশেনরে সাবকে মহাপরচিালক, সাবকে দায়রা ও জলো জজ, বীর মুক্তযিোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইন্তকোল করছেনে। ইন্নালল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউিন। আমি তাঁর ইন্তকোলে গভীর শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে আ'লা মকাম দান করুক।
শুক্রবার সকাল-৮টায় ঢাকার মশুরীখোলা দরবার শরীফে মরহুমরে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠতি হব।ে এতে দরবার শরীফরে পীর সাহবে আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (মা.জ.িআ.) ইমামতি করবনে।

Wednesday, 24 June 2020

করোনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহায়তা



পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৈড়লা কে. পি. বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এমপিও প্রদত্ত ১দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফারহানা জাহান উপমা’র নিকট হস্তান্তর করেন।

আজ ২ এপ্রিল বিকাল ৩ ঘটিকার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ পটিয়া উপজেলা অফিসে গিয়ে এ টাকা হস্তান্তর করেন। এ সময় বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে সৃষ্ট মহামারীতে দেশের চলমান দুরবস্থায় সরকারের ন্যায় আমরাও উৎকন্ঠিত ও শঙ্কিত। একদিকে দেশের মানুষের জীবন বাঁচানো যেমন দায় হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ায় দেশ এক গভীর সংকটে নিপতিত। দেশের এমন ক্রান্তিকালে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও এই দরিদ্র জনগোষ্ঠির সাহায্যে এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি।  তাই, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ  মানবসেবায় সরকারের ত্রাণ তহবিলে প্রদান করছি।

মাননীয় ইউএনও মহোদয় শিক্ষকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে এলে দেশের একজন মানুষও উপোষ থাকবেনা।



ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...