Tuesday, 27 June 2023

ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা

ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতিষ্ঠার বদলে অসংখ্য মানবগড়া সংগঠন বা মতবাদ গড়ে তুলে যেমন নিজেদের খেয়াল-খুশিমত আইন-কানুন, বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, তেমনি তাকওয়াবিহীন ইসলামী রাজনীতিও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।তাই আল্লাহর দুনিয়ায় ইকামতে দীন কায়েমে তাকওয়াভিত্তিক কল্যাণকর সফল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বর্তমান সময়ের অনস্বীকার্য দাবী। নামাযের জন্য যেমন ওযু শর্ত, রাজনীতির জন্য তেমন তাকওয়া শর্ত। শুধু ওযু করলে যেমন নামায আদায় হবেনা, তেমনি ইসলামী শরিয়ত ব্যতিত রাজনীতিও সফল হবেনা। ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া একটি অপরটির সাথে তাই অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

ইসলামে রাজনীতি

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এটি নিছককোনধর্ম নয়। ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি বিভাগের সুসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্যাকেজের নাম। এখানে এর কোনটি বাদ দেয়ার বা অবহেলা করার সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন,

“আমি মানবজাতি ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য।”( সুরা আয-যারিয়াত : ৫৬)

এখানে ‘ইবাদত’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। মানুষের যাবতীয় কথা, কাজ, আয়-ব্যয় ও পারস্পরিক- সম্বন্ধ, এক নির্ধারিত পন্থা এবং নিয়ম পদ্ধতি অনুযায়ী সুসম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য। তা যদি করা হয় তাহলে আল্লাহর মানব সৃষ্ট সংক্রান্ত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সার্থক হতে পারে। অন্যথায় মানুষের জীবনে আল্লাহ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে না। মানবজীবন ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যেতে বাধ্য।

সুতরাং আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং মানবজীবন সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠন তথা ইসলামী হুকুমত। নয়তো মানবজীবনও ব্যর্থ হবে, আল্লাহর উদ্দেশ্যও ব্যর্থ হবে, যেটা কাম্য নয়।

একটি কথা খুব ভালোভাবে বুঝা দরকার, যে যেই জিনিসটা তৈরী করে সে সেই জিনিসটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করার নিয়ম জানে। অন্য কেউ তা দক্ষতার সাথে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারবেনা। যেহেতু এ নশ^র পৃথিবী ও তার যাবতীয় সবকিছু মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সেহেতু এ পৃথিবীতে মানুষ কিভাবে সফল ও সার্থক হবে তার দিক নির্দেশনা তিনি দিয়ে দিয়েছেন এবং আমাদের সেই দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলা একান্ত জরুরী। নচেৎ জীবন যাপন হবে আনাড়ি।ফলে সফলতা লাভ করাও সম্ভবপর হবেনা। মহান আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে বলেছেন 

“ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি কর এবং তাদেও খেয়াল-খুশির অনুসরণ কর না।” ( সুরা মায়িদা:৪৯)

এ আয়াতের দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন অর্থ্যাৎ কুরআন মজীদ অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করা আবশ্যক, নিজেদেও খেয়াল-খুশি মতো বিধান তৈরী কওে রাষ্ট্র পরিচালনা করা আল্লাহ তায়ালার হুকুমের বাইরে।

ইসলামী শাসন পরিচালনা জন্য তিনি অন্যত্র বলেছেন,

“আমি তো আপনার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি আল্লাহ আপনাকে যা জানিয়েছেন তদানুযায়ী মানুষের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করতে পারেন।” (সুরা নিসা : ১০৫)

এসকল নির্দেশের পরও যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব তথা কুরআন মজীদের বিধান অনুসরণ করেনা বরং নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো বিধান রচনা করে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন,

“ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী যারা বিধান দেয় না তারা কাফির।” ( সুরা মায়িদা : ৪৪)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা ফাসিক, তারা যালিম।

তাহলে বুঝা গেল, রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের মনগড়া আইন অচল। আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনলেই তাঁর বিধান মেনে চলতে হবে। তাইতো প্রত্যেক নবী-রাসুল পৃথিবীতে এসে মানবজাতিকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করার সংগ্রাম করেছেন। যাতে আল্লাহর যমীনে তাঁর দীন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাঁর আইন এবং বিধান চালু ও কার্যকর হয়।

পবিত্র কুরআন মজীদে উল্লেখ আছে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়াও হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এবং সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তা আদর্শিক মানে পরিচালনা করেছিলেন।

নিউ ও ওল্ড টেস্টম্যান থেকে জানা যায় যে, বনী ইসরাইলের অন্যান্য নবীগণও রাষ্ট্র সংস্থা সংশোধনের চেষ্টা করেছেন এবং ভ্রান্ত নেতৃত্বেও অবাধ সামলোচনা করেছেন।

ইসলামী চিন্তাধারার রাজনীতি বা রাষ্ট্র যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আল্লাহ তায়ালার নিম্মোক্ত বাণী থেকে বুঝা যায়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় ইসলামের মিশন প্রচার করে নির্যাতিত হচ্ছিলেন তখন তিনি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে শিখিয়ে দেয়া এ আয়াতটি বারবার পড়তেন,

“ বল, হে প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট থেকে আমাকে দানকর সাহায্যকারী।” (সুরা

ইমাম হাসান বসরী, ইবনে কাসীর উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “প্রভু হয় আমাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান কর, আর না হয় অপর কোন রাষ্ট্রকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও, যেন আমি তার শক্তি ও ক্ষমতার মাধ্যমে পৃথিবীর এই মহাভাংগন ও বিপর্যয়কে সংশোধন করতে পারি। অশ্লীলতা ও নাফরমানীর এই মহাপ্লাবনকে প্রতিরোধ করতে পারি এবং তোমার সুষম আইন ও বিধান চালু ও  কার্যকর করতে পারি।”

আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে, সঠিক প্রচার, প্রসার ও প্রয়োগ করতে রাষ্ট্র শক্তির যে কোন বিকল্প নেই তা অনুধাবন করেই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনা শরীফ এসে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন, মদীন সনদ তার পরিকল্পনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করে।

তিনি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলেন, মুখোমুখি হলেন বিরোধী শক্তির। তবুও দীর্ঘ সংগ্রামের পর মদীনা নামক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।


 মানবগড়া বিধান কতটা যুক্তিপূর্ণ

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে মানবগড়া বিধান অনুযায়ী অর্থ্যাৎ মানবরচিত সংবিধান অনুযায়ী। পৃথিবীতে দু’ধরনের সংবিধান রয়েছে। লিখিত সংবিধান ও অলিখিত সংবিধান। উক্ত সংবিধানগুলো লিখিত হোক বা অলিখিত হোক প্রত্যেকটিই মানব রচিত। আর মানব রচিত এ সকল বিধি-বিধান মানুষকে  মেনে চলতে হয়। অথচ কোন মানুষ নির্দিষ্ট কোন মানুষকে অনুসরণ করা বা মেনে চলা প্রকৃতিগত, বিবেকগত এবং ইন্দ্রিয়গত কোন দিক দিয়েই যুক্তিপূর্ণ নয়।

প্রকৃতিগত; যাকে আরবীতে তরবিয়্যত বলে। প্রকৃতি বা স্বভাবগত দিক দিয়ে কোন মানুষ কোন মানুষকে অনুসরণ করতে হয়না। কেননা খাওয়া-দাওয়া, উঠা- বসা, চলা-ফেরা, হাসি-কান্না, অনুরাগ-বিরাগ, পেশাব-পায়খানা প্রভৃতি প্রাকৃতিগত এবং স্বভাবজাত বিষয়ে মানুষ কারো অনুসরণের মুখাপেক্ষী নয়। সদ্য প্রসূত শিশুও জন্মের পর হতে এসকল কাজ করতে পারে অনায়সে। সুতরাং মানুষ যেটা নিজে নিজেই করতে পারে, সেটা কেন সে অন্য মানুষকে অনুসরণ-করে করবে?

বিবেকগত; যাকে আরবীতে আকলিয়্যত বলে। প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু বিবেক বা আকল আছে। এর দ্বারা মানুষ আকলিয়্যত সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে পারে অনায়সে। এ ক্ষেত্রেও মানুষ মানুষের অনুসরণ করার প্রয়োজন পড়েনা। যেমন, দূরে কোথাও ধুঁয়া দেখে প্রত্যেক মানুষই বলতে পারবেযে সেখানে নিশ্চই আগুন লেগেছে। পদচিহ্ন দেখে বলতে পারবে কারো আগমন ঘটেছে এবং আদ্রতা দেখে বুঝতে পারবে এখানে নিশ্চই পানি পড়েছে বা পাশে কোথাও পানি আছে। সুতরাং বুঝা গেল, বিবেক-বিবেচনাগত দিক দিয়ে কোন মানুষ কোন মানুষের অনুসরণ করার দরকার নেই।

ইন্দ্রিয়গত; যাকে আরবীতে বলে হিস্যিয়্যত। ইন্দ্রিয়গত দিক দিয়েও কোন মানুষ কোন মানুষের অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। কেননা, চোখে দেখা, কানে শ্রবণ করা, নাকে ঘ্রাণ নেওয়া, জিহŸা দ্বারা স্বাদ গ্রহণ করা এবং ত্বক দ্বারা ঠান্ডা গরম ইত্যাদি উপলব্ধি করা প্রত্যেক মানুষেরই একই রকম। সুতরাং এখানেও কাউকে অনুসরণ করার দরকার নেই।

এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ কাকে অনুসরণ করবে? আমরা জানি, মানুষ সৃষ্টির সেরাজীব। আশরাফুল মাখলুখাত। স্বভাবজাত জ্ঞান, আকল ও ইন্দ্রিয়ানুভূতি যেহেতু স্বল্প-বিস্তর প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই আছে তাই এক মানুষ আরেক মানুষের মন-মগজ, চিন্তা-চেতনা থেকে উদ্ভুত আইন-কানুন, বিধি-বিধান গ্রহণ করার কথাটি শুধু অযৌক্তিকই নয়; বরং অবাস্তবও বটে। এতে বুঝা যায়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেনঅর্থ্যাৎ ‘অহী’ই হতে পারে মানুষের একমাত্র অনুসরণযোগ্য। কোন মানুষের তৈরী বিধান কোন মানুষ মানতে পারে না। আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ীই মানুষ পৃথিবীতে পরিচালিত হবে।


একটি প্রশ্ন ও তার জবাব

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, মানুষ তো নবী-রাসুলদের অনুসরণ করে থাকেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার এ বাণীটি যথার্থ উত্তর হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

“হে ইমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ নির্দেশ দাতা তাদের আনুগত্য কর। ( সুরা নিছা : ৫৯)

অর্থ্যাৎ তোমরা তাদের আনুগত্য বা অনুসরণ করতে পারো যারা আল্লাহ তায়ালাকে অনুসরণ করেছে। আয়াতে ও-লিল আর্ম বলতে তাদের বুঝিয়েছেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ অনুসরণ করেছেন। আল্লাহর পদাঙ্ক অনুসরণকারী যে কাউকে অনুসরণ করা যাবে। কিন্তু যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথ অনুসরণ করেনি তাদের অনুসরণ করা যাবে না। তাদের রচিত বিধান অনুসরণযোগ্য নয়।

অনেক নামধারী মুসলমান আছেন যারা নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাতের মতো কতিপয় ইবাদত পালন করেন, কিন্তু আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক ব্যবস্থা মানেন না। তাদের ব্যাপারে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্মোক্ত হাদিসটি প্রনিধানযোগ্য।

রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“ আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, আল্লাহ আমাকে ঐগুলো নির্দেশ দিয়েছেন। (বিষয়গুলো হচ্ছে) সংগঠন, নেতার নির্দেশ শ্রবণ, নেতার নির্দেশ পালন, আল্লাহর অপছন্দনীয় সবকিছু বর্জন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ। যেই ব্যক্তি ইসলামী সংগঠন ত্যাগ করে এক বিঘৎ পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলেছে, তবে সে যদি সংগঠনে প্রত্যাবর্তন করে তো স্বতন্ত্র কথা। আর যেই ব্যক্তি জাহিলিয়্যাতের দিকে আহবান জানায় সে জাহান্নামী।” সাহাবাগণ আরজ করলেন, “ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সালাত কায়েম এবং সাওম পালন করা সত্তে¡ও?” আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সালাত কায়েম, সাওম পালন এবং মুসলিম বলে দাবী করা সত্তে¡ও।” (মুসনাদে আহমদ ও হাকেম)

বুঝা গেল, নামাযা ও সাওম পালন করা মুসলিমও যদি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা সংগঠনভূক্ত না হয়, ইসলামী হুকুমত কায়েমে সচেষ্ট না হয়, তাহলে সে মুসলিম জান্নাতে যেতে পারবেনা। হাদীসের দ্বারা একথাটিও স্পষ্ট হয়ে গেল, আল্লাহর বিধানের বাইরে অন্য মতবাদের (জাহিলিয়্যত) দিকে ধাবিত হলে তার স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। আর এখানে সংগঠনের দ্বারা স্পষ্টভাবে ইসলামী রাজনীতির কথা বুঝানো হয়েছে। কারণ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী রাজনীতি আবশ্যক। এটা আল্লাহ তায়ালার নির্দেশও।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে (অর্থ্যাৎ ইসলামকে) আকঁড়ে ধরো।” (সুরা ইমরান : ১০৩)

তারপরেও কি আমরা ইসলামী সংঠন বা রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি?


 মানবগড়া সংবিধান কি শান্তি দিতে পেরেছে?

বর্তমানে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিসহ বিশে^র প্রায় দেশে মানব রচিত সংবিধান প্রচলিত আছে। প্রশ্ন হলো, এই সংবিধান কি মানব জাতিকে মুক্তি বা শান্তি দিতে পেরেছে? মোটেই না। ১৬শ শতাব্দি থেকে শুরু করে একুশ শতাব্দির বর্তমান পর্যন্ত মানব জীবনে শান্তি স্থাপনের জন্য ব্যাঙের ছাতার মতো মানব সৃষ্ট বহু মতবাদ গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব মতবাদ শান্তি স্থাপনের ও সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে জীবনকে করে তুলেছে আরো সংকটময়, সমস্যাসংকুল। ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র আর ধর্মহীন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পরিণতিতে উদ্ভব হয়েছে চরম নির্যাতনমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদ। এ পুঁজিবাদেও ঘোড়ার দাপটে পিষ্ট হয়েছে মানবতা, নির্যাতিত হয়েছে বঞ্চিতের দল। এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় হেগেল ও ডারউইনের বস্তুবাদেও নির্যাস থেকে মহাত্মা কার্ল মার্কস ‘সমাজবাদ’। তার এ মতবাদে দীক্ষা নিলেন লেলিন ও স্তালিন। তারা অত্যনত আকর্ষনীয়ভাবে তুলে ধরল ব্যক্তি-মালিকানার বিরোদ্ধে যুক্তি। কিন্তু এ অবাস্তব সমাজবাদ মানব জীবনে শান্তি স্থাপনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ সারা বিশে^ মানব রচিত মতবাদের যাঁতাকল থেকে মুক্তি লাভ করে খোদায়ী জীবন দর্শন ইসলামী আদর্শের বুনিয়াদে জীবন পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।


 সমস্যাসংকুল বাংলাদেশ

বর্তমানে কেমন চলছে বাংলাদেশ? কিছু অন্ধ ছাড়া সবাই একবাক্যে বলবে, দেশে গভীর সংকট চলছে। নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে রাজা-প্রজা প্রায়ই সবাই একাকার। কেউ ক্ষমতায় থাকায় লড়াই, কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই, আদতে দেশের মানুষের সুখ-শান্তি তাদের কারোই কাম্য নয়। বর্তমান সরকার কেমন করে ক্ষমতায় এসেছে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা সচেতন জনগণ মাত্রই জানেন। যে সংবিধানকে তারা ধর্মগ্রন্থের চেয়েও বড় মনে করে, সেটার উপর ১৬ বার ছুরি চালিয়েছে, কিন্তু শান্তি খোঁজে পাইনি। ক্ষমতায় যে যায় সংবিধান তার। সে তার মতো করে সংবিধান সংশোধন করে। এতো সংশোধন-সংযোজন তবুও দেশের মানুষ মুক্তি পাইনি। মেলেনি সোনার হরিণ শান্তিও। শান্তি মেলবে বলে মনেও হয়না। মানুষ এখন বুঝে গেছে, এ সংবিধান নাগরিকদের জন্য নয়, নয় শান্তির জন্যও। এটা কেবল গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের।


 রাজনীতিতে তাকওয়া

এতো অশান্তির মূল কারণ মানবগড়া সংগঠন। পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা গণতন্ত্র এসব কিছু মাকাল ফল। কভার আকর্ষণীয়, ভেতরে অন্তসারশূণ্য। কেননা যে সংবিধানে মানুষ মানুষের কাছে জবাবদীহিতার শৃংখলে বন্দি, যেখানে মানুষই সকল ক্ষমতার উৎস, সেখানে ক্ষমতার জোরই প্রাধান্য বিস্তার করবে। এটা যুগে যুগে প্রমাণিত হয়ে আসছে। যদি সবকিছুতে মহা ক্ষমতারধর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ভয় থাকত, দুনিয়ার কৃতকর্মের হিসাব পরকালে মহাবিচারক আল্লাহর কাছে দেয়ার বিশ^াস থাকত, সকল ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহকে বলে জানত, তাহলে মানুষে মানুষে ক্ষমতার এত লড়াই চলত না। মানুষ মানুষকে শোষণ করা মহোৎসব চলত না। মানুষের গড়া আইন দিয়ে কখনো মানুষকে শৃংখলিত করা যায়না। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন মানব জাতিকে মুক্তি দিত নয়, মানবজাতির শাসকদের করত আল্লাহর প্রতি ভীত। মহান আল্লাহ বলেছেন.

“ তোমরা সর্বদা মহান আল্লাহকে ভয় করতে থাক। কারণ তিনি তোমাদের প্রতিটি নেক আমল ও অন্যায় ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (সুরা হাশর: ১৮)

ইসলামী শাসকরা আল্লাহকে ভয় করে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেরা যেমন দূরে থাকত, তেমনি দেশ পরিচালনায় প্রজাদের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক থাকত এবং অন্যায় কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকত।

দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদ্বিআল্লাহু তায়াল আনহু একটি ঘটনা। তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে জেরুজালেম যাচ্ছিলেন, প্রখর সূর্যতাপে মরুভূমির বালুকণা উত্তপ্ত। তাঁর বাহন ছিল একটি উট আর সঙ্গী ছিল একজন ক্রীতদাস। তিনি জেরুজালেম যাওয়ার পথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় কখনো তিনি উটের পিঠে চড়তেন, কখনো তাঁর ক্রীতদাসকে উটের পিঠে বসিয়ে তিনি উঠের লাগাম ধরতেন। কারণ তাঁর কাছে আল্লাহর ভয় ছিল যে, শুধু তিনিই যদি উঠের পিঠে চড়েন ক্রীতদাসকে লাগাম টানতে দেন তাহলে সেট অমানবিক হবে। এটার জন্য কাল কিয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহর কাছে জবাবদীহি করতে হবে।

বর্ণিত আছে, আমিরুল মোমেনিন হযরত ওমর রাদ্বি আল্লাহু আনহু মহান আল্লাহর ভয়ে মাঝে মাঝে মাটিতে ঢলে পড়তেন।

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রাদ্বি আল্লাহু আনহু যখন নবীজির বেসাল শরীফের পর ইসলামী দুনিয়ার খেলাপতের দায়িত্ব নিলেন, তখন তাকে রাষ্ট্রের কাজ করতে করতে তাঁর নিজের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে তার পরিবারে অনেক সময় উপোস থাকতে হয়। সাহাবায়ে কেরামগণ ওনাকে বায়তুল মাল থেকে সামান্য ভাতার ব্যবস্থা করতে চাইলে তিনি নারাজ হন। পরবর্তীতে সাহাবাদের অনুরোধে বায়তুল মাল থেকে তাঁর পরিবারে ঐ পরিমাণ আটা পাঠানোর ব্যবস্থা করা যা দিয়ে রুটি বানিয়ে খাওয়া যায়। একদিন খলিফার স্ত্রী তাকে খুবই কাতর সুরে বললেন, হযরত ! বায়তুল মাল থেকে যে পরিমাণ আটা দেয়া হয় তা দিয়ে আপনাকে শুধু শুকনো রুটি বানিয়ে দিতে পারি। আপনি বায়তুল মালের দ্বার রক্ষককে যদি বলতেন, সামান্য আটা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য তাহলে তা দিয়ে হালুয়া বানিয়ে দিতে পারতাম। আপনার এই শুকনো রুটি খেতে খুব কষ্ট হয়। খলিফা তাঁর স্ত্রীকে জবাব দিলেন, দেখো, এই আটা আমি খলিফা বলে বেশী ভোগ করতে পারিনা। এগুলো জনগণের হক। তার থেকে আমি এক চুল পরিমাণও বেশী পারিনা।

খলিফার স্ত্রী বুঝতে পেরে চিন্তা করলে কী করা যায়। যিনি সারাদিন ইসলামের কাজ করেন, জনগণের সেবা করেন তাকে একটু ভালো খাবার দিতে পারবোনা তা কেমন করে হয়। পরে তিনি প্রতিদিনকার আটা থেকে সামান্য পরিমাণ আটা তুলে রাখতেন। কিছুদিন পর বেশ কিছু আটা জমা হলে তা দিয়ে হালুয়া বানিয়ে রুটির সাথে খলিফাকে খেতে দিলেন। আর মনে মনে খুব খুশিও হলেন এই ভেবে, যাক অনেকদিন পর প্রাণের স্বামীকে একটু ভালো খাবার দিতে পেরেছেন। কিন্তু যেই খাবার খলিফা দৃষ্টিগোচার হলো সাথে সাথে তিনি স্ত্রীকে জিঙ্ঘেস করলেন, “এই হালুয়া কোত্থেকে বানানো হলো?” স্ত্রী খুশি হয়ে আসল ঘটনাটি খুলে বললেন। পরোক্ষণে খলিফা হযরত আবু বকর রাদ্বি আল্লাহু আনহু বায়তুল মালের রক্ষককে ডেকে বললেন, কাল থেকে যে ঐ পরিমাণ আটা কম দেয়া হয়, কেননা এতদিন এই পরিমাণ আটা কম খাওয়াতে সম্যসা হয়নি, বরঞ্চ তা পেঠের জন্য বেশী হয়ে গিয়েছিল। তার জন্য তিনি আফসোস করতে লাগলেন যে, কাল কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহকে কী জবাব দেবেন।

এই হলো ইসলামী শাসক।যারা আল্লাহর ভয়ে সর্বদা তটস্থ থাকতেন। প্রজাদের অধিকারের ব্যপারে খুব সচেতন ছিলেন। অপচয় ও অপব্যয়ের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস ছিলেন।

আজ সময়ের দাবী, গভীর সংকটে নিপতিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বাঁচাতে, দেশের মানুষের উপর থেকে নির্যাতনের খড়গ নামাতে, দেশে শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে, বিশেষত আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দীন কায়েম করতে ইসলামী রাজনীতির মাধ্যমে একটি কল্যাণকর খোদায়ী জীবনব্যবস্থা এবং প্রিয় নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের প্রতিষ্ঠিত শান্তিকামী, কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন কর। এ জন্য দেশের সংখ্যাগরিষ্ট সুন্নী মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে গুরুত্ব বুঝতে হবে। আল্লাহ তাবারকা তায়ালা আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দিক। আমিন !

Thursday, 19 November 2020

দেশটা যেন ধর্ষিত আজ

সবুজ-শ্যামল আমার দেশে

উন্নয়নের জোয়ার এসে

মন-মগজ হয় স্বাধীন,

স্বাধীন মনে চিন্তা করে

নারী কেন থাকবে ঘরে

থাকবে কারো অধীন?


টোপটা গিলে নারী এলো

বন্ধি জীবন খুলে গেলো

পেলো- মুক্ত পরিবেশ!

মুক্ত হাওয়ায় নিজকে বিলায়

হাওড় সাগর পাহাড় টিলায়

দেখে ঘুরে দেশ।


মুক্তমনের আড়ালে তারা

ফাঁদ পাতে দেশটা সারা

লুটে ইজ্জত নারীর,

বলে আরো তোমার গায়

কী নিদারুণ খুশবো পায়

আমার মায়ের শাড়ীর।


পরোক্ষণেই বুঝতে পারে

পড়লো সে কোন খপ্পরে

ইজ্জত করলো শেষ,

দেশটা যেন ধর্ষিত আজ

মুক্তমনা করলো যে রাজ

সোনার বাংলাদেশ!

Saturday, 4 July 2020

আমাদের ইমরোজ ৩৮তম বিসিএসে সেরাদের সেরাঃ মাদরাসায় পড়েও সেরা হওয়া যায় ।






কাজ করছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তা হিসেবে। তার আগেই ২০১৭ সালে দিয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষা— সেটাই প্রথম ও একমাত্র। তাতেই একেবারে সাফল্যের চূড়ায় উঠে গেলেন। সারাদেশে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম স্থানে যার নামটি জ্বলজ্বল করছে, তিনি চট্টগ্রামেরই ছেলে। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে হয়েছেন সেরাদের সেরা।
সারাদেশে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়া গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন নিজেও ভাবতে পারেননি এমন অভাবনীয় ফল তিনি পাবেন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের কাছে অনুভূতি জানিয়ে ইমরোজ বললেন, ‘বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া ৩৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। সত্যিই এটা অন্যরকম অনুভূতি। তিন-চার বছর টানা পরিশ্রমের পর এমন ফলাফল পেয়ে খুব ভাল লাগছে।’
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী এলাকার গাজী পাড়ার সন্তান গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখায় প্রভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে পা দেন ২০১৯ সালে। এর দুই বছর আগে দেওয়া বিসিএস পরীক্ষার ফল বের হল মঙ্গলবার (৩০ জুন)। ৩৮তম এই বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বিসিএসে এই সাফল্যের পেছনে পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ইমরোজ। তার প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস তার বাবা-মা। বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস। মা নুর আয়েশা বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। ছোট দুই বোন বিবাহিত, ছোট ভাই কোরআনে হাফেজ ।
গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন পটিয়ার শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে গোল্ডেন-এ প্লাস পেয়ে দাখিল এবং একই মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে মানবিক বিভাগে এ প্লাস পেয়ে আলিম পাশ করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
ইমরোজ বলেন, ‘আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কম্প্রোমাইজ করতাম না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতাম।’
পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় দায়িত্বটা একটু বেশিই ছিল ইমরোজের। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ইমরোজের লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্কলার হয়ে দ্বীনের সেবা করা। পড়ালেখায় বাবা-মা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়। ইমরোজ বিসিএসের পড়াশোনা করেছেন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত। পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিসিএসের জন্য যা কিছু করেছি, সবকিছুই নিজে নিজে। মানুষের নেতিবাচক কথাগুলো আমি সবসময়ই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। তবে আমার বাবা-মা অনেক সহযোগিতা করেছেন।’
ইমরোজ বলেন, ‘৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি যেন প্রশাসন ক্যাডারে যাই। কিন্তু আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল শিক্ষা ক্যাডার।’
তিনি বলেন, ‘যদিও বাবা-মায়ের কথা রাখতে গিয়ে ফরমে প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার দিয়ে দ্বিতীয় পছন্দ দিয়েছিলাম শিক্ষা ক্যাডার। আমি মনে করি, প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডারের চাকুরেরা তাদের কাজের বাইরে কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক তার মনের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজে লাগাতে পারেন এবং অনেক মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন। মানুষ গড়ার কারিগরের এমন পেশায় যুক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’
ইমরোজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল সবসময়। আমি নিজে দেখেছি সারা রাত জেগে থেকে পড়াশোনা করেছে। অবশেষে কষ্টের ফল পেয়েছে সে।’
তার গৃহিণী মা নুর আয়েশা বেগম বলেন,‘ ভালোভাবে পড়াশোনা করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বিসিএস ক্যাডার হতে পারে। প্রতিবারই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএসে উত্তীর্ণ হচ্ছে। আমার ছেলে ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী। ইসলামী শিক্ষায়ও সমানভাবে পারদর্শী। তার এই সাফল্যে আমি মা হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।’

#রিপোর্টটি  চট্টগ্রাম প্রতিদিন থেকে কপিকৃত।  

নানা ধর্মের অনুসারী পৃথিবীর বহু বিখ্যাত মনীষী ধর্ম হিসেবে ইসলাম এবং এর প্রাণপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (দ.) সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ ও মূল্যবান কথা বলেছেন। আসুন এর কয়েকটি আমরা জেনে নিই :


বিশ্বখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ : যদি আগামী একশ বছরের মধ্যে শুধু ইংল্যান্ড নয়, সারা ইউরোপকে শাসন করার সম্ভাবনা কোনো ধর্মের থেকে থাকে, তাহলে সে ধর্ম হবে শুধু ইসলাম। আমি সবসময় মুহাম্মাদ (সা.)-এর ধর্ম সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে এসেছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য।
আমার মনে হয়, ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা জীবনের পরিবর্তিত ধাপের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই কারণেই প্রতিটি যুগেই এর আবেদন রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যদি মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো একজন মানুষ আধুনিক বিশ্বের একনায়কের পদ অধিকার করতেন, তাহলে তিনি এমন সাফ্যলের সঙ্গে এর সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারতেন যা এর জন্য প্রয়োজনীয় সুখ ও শান্তি বয়ে আনত । (Genuine Islam, vol.-1)

ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টি : পৃথিবীর সব ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই পেরেছিল জাত ও বর্ণের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে। (History of the Arabs, page 3)

মানবতাবাদী এম. এন. রায় : ইসলামের অসাধারণ সাফল্যের মূলে আছে এর বৈপ্লবিক তাৎপর্য । ইসলামই প্রথম সামাজিক সাম্য প্রবর্তন করেছিল যা সমস্ত দেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে তখনও অজানা ছিল । (The Historical Role of Islam)

অহিংসবাদী মহাত্মা গান্ধী : মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন একজন মহান পয়গম্বর । তিনি সাহসী ছিলেন এবং আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না । তিনি কখনও এক কথা বলে অন্য কাজ করতেন না। এই পয়গম্বর ছিলেন ফকিরের মতো । তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে প্রচুর সম্পদ করতে পারতেন । আমি যখন তাঁর দুঃখের কাহিনী পড়ি তখন আমার চোখ দিয়ে কান্না ঝরে পড়ে। তিনি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীরা স্বেচ্ছায় কতই না কষ্ট ভোগ করেছিলেন। তাই আমার মতো একজন সত্যাগ্রহী তাঁর মতো মানুষকে শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারে না । যিনি তাঁর মনকে নিবদ্ধ রেখেছিলেন এক আল্লাহর প্রতি এবং তিনি চিরকাল হেঁটেছেন আল্লাহ ভীরুতার পথে। মানব জাতির প্রতি তাঁর সহানুভূতি ছিল সীমাহীন। (Islam and its holy prophet as judged by the Non Muslim world, page- 20)

Thursday, 25 June 2020

করোনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ: গবেষণা

গত ২৫/৬/২০২০খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের এক রিপোর্টে  ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার
ফল তুলে ধরা হয় বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিআইজিডির গবেষণায় বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়। আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার।
যদিও মনে হতে পারে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বাড়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি।
গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় পড়াশোনার সময় কমার বিপরীতে বেড়েছে শিশু শ্রমের হার।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এই তথ্যগুলো, গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। শহরের বস্তি এলাকাও চিত্রটা মোটামুটি একইরকম।
বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কম্যুনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। মহামারি সৃষ্ট অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে কিংবা, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। কম্যুনিটি-নির্ভর বহুমাত্রিক পদক্ষেপ যা এনজিওগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে সরকারী নীতিকে আমলে নিতে হবে। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা বাধাগুলোকে এভাবেই অপসারণ করা প্রয়োজন।
গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুদের পড়াশুনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন পরিবারের কাজের পেছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য-বাস্তবে, স্কুল বন্ধ হওয়ায় ছয় ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করব।’
করোনা প্রাদুর্ভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কবে থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এই সময়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব ও অনলাইনে পাঠগ্রহণের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কীভাবে মানিয়ে নিতে পারছে তা দেখতে এই গবেষণাটি করেছে বিআইজিডি।
মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা বাংলাদেশের শহরের বস্তি ও গ্রাম এলাকার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণাটি করেছেন।

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে দাফন ও্ সৎকারে দৃষ্টান্ত গাউসিয়া কমিটি

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় মারা যান রাউজান পৌর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ নাসির (৪৫)। গভীর রাতে ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ গ্রামে নিয়ে আসেন স্ত্রী। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা কেউ ঘর থেকে বের হননি। খবর দেওয়া হলে জানাজা পড়ানোর ভয়ে মসজিদের ইমামও পালিয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হলে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ দাফনে ছুটে আসেন গাউসিয়া কমিটি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক। সকালে তাঁরা লাশ গোসলের পর কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে দাফন করেন। গত ২৯ মের ঘটনা এটি।
১১ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া (৬৭) নামের এক বৌদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয় গাউসিয়া কমিটির। লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো, গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের সব কাজ করেন এই সংগঠনের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া শাখার কর্মীরা।ধর্ম–বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এভাবে দিন–রাত করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন ও সৎকারে ছুটে চলেন তাঁরা। করোনাসংকট শুরু হওয়ার পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগঠনটি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৩ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষসহ ৩৩২টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে। এর মধ্যে করোনা রোগী ছিলেন ১৫০ জন। বাকিদের উপসর্গ ছিল। সবচেয়ে বেশি ২৩৭ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। ঢাকায় হয়েছে ৫১ জন। এ ছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাটেও লাশ দাফন করেন তাঁরা।সংগঠন সূত্র জানা যায়, করোনাসংকটের শুরুতে সংগঠনটির কর্মীরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লাশ দাফনকাজের প্রশিক্ষণ নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে সুরক্ষা পোশাক পরে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির কোনো স্বেচ্ছাসেবী করোনায় আক্রান্ত হননি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, লাশ দাফন ছাড়াও বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে তারা। গত রমজানে এক লাখ পরিবারে ত্রাণ বিতরণও করে। এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ান বাজারের দিদার মার্কেটে। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এই গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানে দেশে ২০০–এর বেশি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সচিব শাহজাদ ইবনে দিদার জানান, সারা দেশে এই সংগঠন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ করে। দেশের ৫০ জেলায় রয়েছে তাঁদের সংগঠনের বিস্তার। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই সংগঠনের প্রায় ৭০০ কর্মী করোনায় মৃতদের দাফনে কাজ করছেন।
লাশ দাফনকাজের সমন্বয় কমিটির প্রধান মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে লাশের জানাজা পড়ানোর জন্য ইমামও পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে বাংলা শিক্ষিত হয়েও তাঁকে ইমামতি করতে হয়েছে। অনেক সময় পিপিই সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি মনে করেন, সরকারিভাবে আরও সহযোগিতা পেলে সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারবেন।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে তমাল বড়ুয়া বলেন, তাঁর বাবার লাশ গোসল ও শেষকৃত্যের সব কাজ করেন গাউসিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁদের এই সহযোগিতা তাঁর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইফা'র সাবেক ডিজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজালের ইন্তেকালঃ গভীর শোক প্রকাশ

ইসলামকি ফাউন্ডশেনরে সাবকে মহাপরচিালক, সাবকে দায়রা ও জলো জজ, বীর মুক্তযিোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইন্তকোল করছেনে। ইন্নালল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউিন। আমি তাঁর ইন্তকোলে গভীর শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে আ'লা মকাম দান করুক।
শুক্রবার সকাল-৮টায় ঢাকার মশুরীখোলা দরবার শরীফে মরহুমরে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠতি হব।ে এতে দরবার শরীফরে পীর সাহবে আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (মা.জ.িআ.) ইমামতি করবনে।

ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...