Saturday, 4 July 2020

আমাদের ইমরোজ ৩৮তম বিসিএসে সেরাদের সেরাঃ মাদরাসায় পড়েও সেরা হওয়া যায় ।






কাজ করছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তা হিসেবে। তার আগেই ২০১৭ সালে দিয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষা— সেটাই প্রথম ও একমাত্র। তাতেই একেবারে সাফল্যের চূড়ায় উঠে গেলেন। সারাদেশে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম স্থানে যার নামটি জ্বলজ্বল করছে, তিনি চট্টগ্রামেরই ছেলে। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে হয়েছেন সেরাদের সেরা।
সারাদেশে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়া গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন নিজেও ভাবতে পারেননি এমন অভাবনীয় ফল তিনি পাবেন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের কাছে অনুভূতি জানিয়ে ইমরোজ বললেন, ‘বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া ৩৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। সত্যিই এটা অন্যরকম অনুভূতি। তিন-চার বছর টানা পরিশ্রমের পর এমন ফলাফল পেয়ে খুব ভাল লাগছে।’
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী এলাকার গাজী পাড়ার সন্তান গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখায় প্রভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে পা দেন ২০১৯ সালে। এর দুই বছর আগে দেওয়া বিসিএস পরীক্ষার ফল বের হল মঙ্গলবার (৩০ জুন)। ৩৮তম এই বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বিসিএসে এই সাফল্যের পেছনে পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ইমরোজ। তার প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস তার বাবা-মা। বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস। মা নুর আয়েশা বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। ছোট দুই বোন বিবাহিত, ছোট ভাই কোরআনে হাফেজ ।
গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন পটিয়ার শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে গোল্ডেন-এ প্লাস পেয়ে দাখিল এবং একই মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে মানবিক বিভাগে এ প্লাস পেয়ে আলিম পাশ করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
ইমরোজ বলেন, ‘আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কম্প্রোমাইজ করতাম না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতাম।’
পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় দায়িত্বটা একটু বেশিই ছিল ইমরোজের। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ইমরোজের লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্কলার হয়ে দ্বীনের সেবা করা। পড়ালেখায় বাবা-মা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়। ইমরোজ বিসিএসের পড়াশোনা করেছেন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত। পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিসিএসের জন্য যা কিছু করেছি, সবকিছুই নিজে নিজে। মানুষের নেতিবাচক কথাগুলো আমি সবসময়ই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। তবে আমার বাবা-মা অনেক সহযোগিতা করেছেন।’
ইমরোজ বলেন, ‘৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি যেন প্রশাসন ক্যাডারে যাই। কিন্তু আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল শিক্ষা ক্যাডার।’
তিনি বলেন, ‘যদিও বাবা-মায়ের কথা রাখতে গিয়ে ফরমে প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার দিয়ে দ্বিতীয় পছন্দ দিয়েছিলাম শিক্ষা ক্যাডার। আমি মনে করি, প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডারের চাকুরেরা তাদের কাজের বাইরে কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক তার মনের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজে লাগাতে পারেন এবং অনেক মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন। মানুষ গড়ার কারিগরের এমন পেশায় যুক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’
ইমরোজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল সবসময়। আমি নিজে দেখেছি সারা রাত জেগে থেকে পড়াশোনা করেছে। অবশেষে কষ্টের ফল পেয়েছে সে।’
তার গৃহিণী মা নুর আয়েশা বেগম বলেন,‘ ভালোভাবে পড়াশোনা করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বিসিএস ক্যাডার হতে পারে। প্রতিবারই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিসিএসে উত্তীর্ণ হচ্ছে। আমার ছেলে ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী। ইসলামী শিক্ষায়ও সমানভাবে পারদর্শী। তার এই সাফল্যে আমি মা হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।’

#রিপোর্টটি  চট্টগ্রাম প্রতিদিন থেকে কপিকৃত।  

নানা ধর্মের অনুসারী পৃথিবীর বহু বিখ্যাত মনীষী ধর্ম হিসেবে ইসলাম এবং এর প্রাণপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (দ.) সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ ও মূল্যবান কথা বলেছেন। আসুন এর কয়েকটি আমরা জেনে নিই :


বিশ্বখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ : যদি আগামী একশ বছরের মধ্যে শুধু ইংল্যান্ড নয়, সারা ইউরোপকে শাসন করার সম্ভাবনা কোনো ধর্মের থেকে থাকে, তাহলে সে ধর্ম হবে শুধু ইসলাম। আমি সবসময় মুহাম্মাদ (সা.)-এর ধর্ম সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে এসেছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য।
আমার মনে হয়, ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা জীবনের পরিবর্তিত ধাপের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই কারণেই প্রতিটি যুগেই এর আবেদন রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যদি মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো একজন মানুষ আধুনিক বিশ্বের একনায়কের পদ অধিকার করতেন, তাহলে তিনি এমন সাফ্যলের সঙ্গে এর সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারতেন যা এর জন্য প্রয়োজনীয় সুখ ও শান্তি বয়ে আনত । (Genuine Islam, vol.-1)

ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টি : পৃথিবীর সব ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই পেরেছিল জাত ও বর্ণের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে। (History of the Arabs, page 3)

মানবতাবাদী এম. এন. রায় : ইসলামের অসাধারণ সাফল্যের মূলে আছে এর বৈপ্লবিক তাৎপর্য । ইসলামই প্রথম সামাজিক সাম্য প্রবর্তন করেছিল যা সমস্ত দেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে তখনও অজানা ছিল । (The Historical Role of Islam)

অহিংসবাদী মহাত্মা গান্ধী : মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন একজন মহান পয়গম্বর । তিনি সাহসী ছিলেন এবং আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না । তিনি কখনও এক কথা বলে অন্য কাজ করতেন না। এই পয়গম্বর ছিলেন ফকিরের মতো । তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে প্রচুর সম্পদ করতে পারতেন । আমি যখন তাঁর দুঃখের কাহিনী পড়ি তখন আমার চোখ দিয়ে কান্না ঝরে পড়ে। তিনি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীরা স্বেচ্ছায় কতই না কষ্ট ভোগ করেছিলেন। তাই আমার মতো একজন সত্যাগ্রহী তাঁর মতো মানুষকে শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারে না । যিনি তাঁর মনকে নিবদ্ধ রেখেছিলেন এক আল্লাহর প্রতি এবং তিনি চিরকাল হেঁটেছেন আল্লাহ ভীরুতার পথে। মানব জাতির প্রতি তাঁর সহানুভূতি ছিল সীমাহীন। (Islam and its holy prophet as judged by the Non Muslim world, page- 20)

Thursday, 25 June 2020

করোনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ: গবেষণা

গত ২৫/৬/২০২০খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের এক রিপোর্টে  ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার
ফল তুলে ধরা হয় বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিআইজিডির গবেষণায় বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়। আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার।
যদিও মনে হতে পারে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বাড়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি।
গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় পড়াশোনার সময় কমার বিপরীতে বেড়েছে শিশু শ্রমের হার।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এই তথ্যগুলো, গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। শহরের বস্তি এলাকাও চিত্রটা মোটামুটি একইরকম।
বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কম্যুনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। মহামারি সৃষ্ট অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে কিংবা, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। কম্যুনিটি-নির্ভর বহুমাত্রিক পদক্ষেপ যা এনজিওগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে সরকারী নীতিকে আমলে নিতে হবে। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা বাধাগুলোকে এভাবেই অপসারণ করা প্রয়োজন।
গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুদের পড়াশুনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন পরিবারের কাজের পেছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য-বাস্তবে, স্কুল বন্ধ হওয়ায় ছয় ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করব।’
করোনা প্রাদুর্ভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কবে থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এই সময়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব ও অনলাইনে পাঠগ্রহণের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কীভাবে মানিয়ে নিতে পারছে তা দেখতে এই গবেষণাটি করেছে বিআইজিডি।
মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা বাংলাদেশের শহরের বস্তি ও গ্রাম এলাকার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণাটি করেছেন।

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে দাফন ও্ সৎকারে দৃষ্টান্ত গাউসিয়া কমিটি

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় মারা যান রাউজান পৌর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ নাসির (৪৫)। গভীর রাতে ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ গ্রামে নিয়ে আসেন স্ত্রী। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা কেউ ঘর থেকে বের হননি। খবর দেওয়া হলে জানাজা পড়ানোর ভয়ে মসজিদের ইমামও পালিয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হলে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ দাফনে ছুটে আসেন গাউসিয়া কমিটি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক। সকালে তাঁরা লাশ গোসলের পর কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে দাফন করেন। গত ২৯ মের ঘটনা এটি।
১১ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া (৬৭) নামের এক বৌদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয় গাউসিয়া কমিটির। লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো, গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের সব কাজ করেন এই সংগঠনের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া শাখার কর্মীরা।ধর্ম–বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এভাবে দিন–রাত করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন ও সৎকারে ছুটে চলেন তাঁরা। করোনাসংকট শুরু হওয়ার পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগঠনটি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৩ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষসহ ৩৩২টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে। এর মধ্যে করোনা রোগী ছিলেন ১৫০ জন। বাকিদের উপসর্গ ছিল। সবচেয়ে বেশি ২৩৭ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। ঢাকায় হয়েছে ৫১ জন। এ ছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাটেও লাশ দাফন করেন তাঁরা।সংগঠন সূত্র জানা যায়, করোনাসংকটের শুরুতে সংগঠনটির কর্মীরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লাশ দাফনকাজের প্রশিক্ষণ নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে সুরক্ষা পোশাক পরে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির কোনো স্বেচ্ছাসেবী করোনায় আক্রান্ত হননি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, লাশ দাফন ছাড়াও বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে তারা। গত রমজানে এক লাখ পরিবারে ত্রাণ বিতরণও করে। এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ান বাজারের দিদার মার্কেটে। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এই গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানে দেশে ২০০–এর বেশি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সচিব শাহজাদ ইবনে দিদার জানান, সারা দেশে এই সংগঠন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ করে। দেশের ৫০ জেলায় রয়েছে তাঁদের সংগঠনের বিস্তার। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই সংগঠনের প্রায় ৭০০ কর্মী করোনায় মৃতদের দাফনে কাজ করছেন।
লাশ দাফনকাজের সমন্বয় কমিটির প্রধান মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে লাশের জানাজা পড়ানোর জন্য ইমামও পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে বাংলা শিক্ষিত হয়েও তাঁকে ইমামতি করতে হয়েছে। অনেক সময় পিপিই সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি মনে করেন, সরকারিভাবে আরও সহযোগিতা পেলে সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারবেন।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে তমাল বড়ুয়া বলেন, তাঁর বাবার লাশ গোসল ও শেষকৃত্যের সব কাজ করেন গাউসিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁদের এই সহযোগিতা তাঁর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইফা'র সাবেক ডিজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজালের ইন্তেকালঃ গভীর শোক প্রকাশ

ইসলামকি ফাউন্ডশেনরে সাবকে মহাপরচিালক, সাবকে দায়রা ও জলো জজ, বীর মুক্তযিোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইন্তকোল করছেনে। ইন্নালল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউিন। আমি তাঁর ইন্তকোলে গভীর শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে আ'লা মকাম দান করুক।
শুক্রবার সকাল-৮টায় ঢাকার মশুরীখোলা দরবার শরীফে মরহুমরে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠতি হব।ে এতে দরবার শরীফরে পীর সাহবে আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (মা.জ.িআ.) ইমামতি করবনে।

Wednesday, 24 June 2020

করোনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহায়তা



পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৈড়লা কে. পি. বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এমপিও প্রদত্ত ১দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফারহানা জাহান উপমা’র নিকট হস্তান্তর করেন।

আজ ২ এপ্রিল বিকাল ৩ ঘটিকার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ পটিয়া উপজেলা অফিসে গিয়ে এ টাকা হস্তান্তর করেন। এ সময় বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে সৃষ্ট মহামারীতে দেশের চলমান দুরবস্থায় সরকারের ন্যায় আমরাও উৎকন্ঠিত ও শঙ্কিত। একদিকে দেশের মানুষের জীবন বাঁচানো যেমন দায় হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ায় দেশ এক গভীর সংকটে নিপতিত। দেশের এমন ক্রান্তিকালে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও এই দরিদ্র জনগোষ্ঠির সাহায্যে এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি।  তাই, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ  মানবসেবায় সরকারের ত্রাণ তহবিলে প্রদান করছি।

মাননীয় ইউএনও মহোদয় শিক্ষকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে এলে দেশের একজন মানুষও উপোষ থাকবেনা।



Wednesday, 25 March 2020

করোনার প্রভাবে নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির হিড়িকঃ এ যেন আরেক মহামারী



কোভিড-১৯। যা করোনা ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের শহর উহান থেকেই সর্বপ্রথম এই মরণঘাতি সংক্রামক ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যা চীন পেরিয়ে এখন বিশে^র ১৯৫ টি দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এই সংক্রামক ভাইরাসকে বৈশি^ক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে চীন, ইতালি, স্পেন, আমেরিকা, জার্মানী, ইরানসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে আজকের দিন পর্যন্ত প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। মানুষে মানুষে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক এখনো আবিস্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। ফলে এই সংক্রামক ভাইরাস ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সেবার দিক দিয়ে বিশে^র উন্নত দেশগুলোতে যেখানে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে, সেখানে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের পরিস্থিতি কেমন হবে। এমন শঙ্কার মধ্যেই গত ৮ মার্চ ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশে প্রথম করোনাক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে আইইডিসিআর। তার মানে আমাদের দেশেও ঢুকে পড়েছে করোনা।
স্বাভাবিক ভাবে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তির ‘কোয়ারান্টাইন’ এ থাকা এক প্রকার বাধ্যতামূলক। আর আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্যদের বাঁচাতে সতর্কতামূলক সবাইকে নিজ নিজ বাসস্থলে অবস্থান করাও কার্যকর একটি পদ্ধতি। যে জন্য দেশে দেশে সরকারগুলো আক্রান্ত এলাকা ‘লকডাউন’ করাসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশের সরকারও লকডাউনের দিকে এগুচ্ছে। লকডাউন মানে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন। ‘করোনা’ মহামারীর চেয়ে এই ‘লকডাউন’ যেন হঠাৎ আরো বড় মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশের মানুষের কাছে। অবরুদ্ধ জীবনে মানুষ খাবে কি, বাঁচবে কেমন করে সেটাই যেন প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাইতো একদিকে ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী মজুদ করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে সেই সুযোগে আসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্য বৃদ্ধির হিড়িক পড়েছে। মজুদ করা আর মূল্য বৃদ্ধি করার এই প্রবণতার মাঝে বড় শঙ্কা হয়ে দেখা দিয়েছে দেশের সংখ্যা গরিষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠির বেঁচে থাকা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরার শঙ্কার চেয়েও তাদের মধ্যে এখন না খেয়ে মরার শঙ্কা অনেক বড় করে দেখা দিয়েছে। করোনার পর এটা যেন তাদের জন্য আরেক মহামারী।
সরকার বিষয়টা আঁচ করতে পেরেছে বলে মনে হয়। তাই বাজারে বাজারে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্টেট ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টিম অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতার আনার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জনসাধারণকেও অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় না করতে বুঝানোর চেষ্টা করছে। তবে বাজার অনুপাতে তা যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে, শুধু বাজার মনিটরিং করেও তা নিয়ন্ত্রণ করা বা জনসাধারণকে সচেতন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের ব্যবসায়ী ও  জনগণের মধ্যে নীতি-নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না হবে। সেনাবাহিনী নেমে গেলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র তথ্য মতে দেশে দারিদ্রতার হার ২০.৫ এবং হত দরিদ্রের হার ১০.৫ শতাংশ। আর দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সে হিসেবে প্রায় সোয়া তিন কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। যদিও প্রকৃত তথ্য ভিন্ন বলে মনে হয়। তবুও এই জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করলেও উৎকন্ঠিত না হয়ে পারা যায় না। একদিকে দারিদ্রতা অন্যদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতায় পিছিয়ে আমরা। করোনার মরণব্যাধি একবার তাদের মধ্যে ঢুকে পড়লে কী করুণ অবস্থায় না হবে! না পাবে খেতে, না পাবে চিকিৎসা নিতে।
যদিওবা করোনায় মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশ বলা হচ্ছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে। প্রথম দিকে চীনে তা ছিল ২ শতাংশে। ইতালিতে এই হার বেড়ে হয় ২.৮ শতাংশে। আর এখন বিশ^ব্যাপি যেভাবে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলছে তাতে ৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে যাবে না তা বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে, উন্নত বিশ^ যেখানে সব সুবিধা নিয়েও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতি নিয়ত হেরে চলেছে তাতে এ আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
সরকার দেশের দরিদ্রদেরকে নোয়াখালির ভাসান চরে যাওয়ার কথা বলছে। যেখানে তাদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কত জনকে খাওয়াবে। যা শুনেছি তাতে ওখানে মাত্র ১ লাখ লোকের জায়গা হবে। সোয়া তিন কোটির বাকির জন্য কী ব্যবস্থা হবে? এ পরিস্থিতি যদি আগামী দুই থেকে তিন মাস চলে, তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা ছোট খাটো প্রাইভেট চাকরি বা অন্যান্য কাজ-কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের কী অবস্থা হবে? শুনা যাচ্ছে, অনেকে এই চাকরীও হারাতে পারেন। তাহলে তো ‘মড়ার উপর খাড়ার গা’র মতোই হবে। আসলে করোনার এ লড়াই শুধু  করোনা আক্রান্ত হবার ভয়ে সীমাবদ্ধ নেই, ভয় কোন রকম খেয়ে-পরে বেঁচের থাকারও।
কানাডা সরকার দেশের সকল জনগোষ্ঠিকে আশ^স্ত করতে পেরেছে এই বলে যে, প্রত্যেকের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাবার-দাবার পৌঁছে দেবে তারা। আমাদের কি তা সম্ভব? সম্ভব নয় তা আমরা সকলেই জানি। সুতরাং করোনার এ লড়াই শুধু সরকারের একার নয়, আমাদের সকলের। এটা আমাদের বুঝতে হবে। বেশি করে বুঝতে ব্যবসায়ীদের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা পায় বা না পায়, অন্তত বেঁচে থাকা পর্যন্ত কিছু খাবার-দাবার যেন পায়।
তাই, ব্যবসায়ী ভাইদের অধিক মুনাফা না করে দ্রব্যমূল্যের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা উচিৎ । আর ধনী ও মধ্যবিত্ত  জনগণেরও বুঝা উচিত, টাকা আছে বলে শুধু তারাই অগ্রিম দুই তিন মাসের খাবার মজুত করে রাখবে, বাকী জনগোষ্ঠিরা খাবে কি? এই নৈতিকতাবোধ না থাকলে আমরা মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে লাভটা কি।
সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের এদেশে তা অত্যন্ত বেমানান। কারণ ইসলামের নবী হযরত মুহামম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী”(মুসলিম শরীফ)। অন্যত্র তিনি বলেছেন, “মজুতদার ব্যক্তি খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দর হ্রাস পায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দর বেড়ে যায়, তবে আনন্দিত হয়”(বায়হাকী)।
ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী শরীফে উল্লেখ আছে, “কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে (মজুতদারী করে) তবে আল্লাহ তা’আলা তার উপর মহামারী ও দারিদ্রতা চাপিয়ে দেন”। সুতরাং করোনার ভয়াবহ এই মহামারীতে নিত্য পণ্যের মজুতদারী বা অহেতুক মূল্যবৃদ্ধিকারীরা আমাদের জন্য আরেকটি মহামারীই যেন ডেকে আনছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুক। আমিন।



ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...