Thursday, 25 June 2020

করোনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ: গবেষণা

গত ২৫/৬/২০২০খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের এক রিপোর্টে  ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার
ফল তুলে ধরা হয় বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিআইজিডির গবেষণায় বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়। আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার।
যদিও মনে হতে পারে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বাড়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি।
গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় পড়াশোনার সময় কমার বিপরীতে বেড়েছে শিশু শ্রমের হার।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এই তথ্যগুলো, গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। শহরের বস্তি এলাকাও চিত্রটা মোটামুটি একইরকম।
বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কম্যুনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। মহামারি সৃষ্ট অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে কিংবা, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। কম্যুনিটি-নির্ভর বহুমাত্রিক পদক্ষেপ যা এনজিওগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে সরকারী নীতিকে আমলে নিতে হবে। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা বাধাগুলোকে এভাবেই অপসারণ করা প্রয়োজন।
গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুদের পড়াশুনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন পরিবারের কাজের পেছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য-বাস্তবে, স্কুল বন্ধ হওয়ায় ছয় ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করব।’
করোনা প্রাদুর্ভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কবে থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এই সময়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব ও অনলাইনে পাঠগ্রহণের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কীভাবে মানিয়ে নিতে পারছে তা দেখতে এই গবেষণাটি করেছে বিআইজিডি।
মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা বাংলাদেশের শহরের বস্তি ও গ্রাম এলাকার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণাটি করেছেন।

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে দাফন ও্ সৎকারে দৃষ্টান্ত গাউসিয়া কমিটি

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় মারা যান রাউজান পৌর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ নাসির (৪৫)। গভীর রাতে ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ গ্রামে নিয়ে আসেন স্ত্রী। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা কেউ ঘর থেকে বের হননি। খবর দেওয়া হলে জানাজা পড়ানোর ভয়ে মসজিদের ইমামও পালিয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হলে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ দাফনে ছুটে আসেন গাউসিয়া কমিটি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক। সকালে তাঁরা লাশ গোসলের পর কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে দাফন করেন। গত ২৯ মের ঘটনা এটি।
১১ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া (৬৭) নামের এক বৌদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয় গাউসিয়া কমিটির। লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো, গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের সব কাজ করেন এই সংগঠনের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া শাখার কর্মীরা।ধর্ম–বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এভাবে দিন–রাত করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন ও সৎকারে ছুটে চলেন তাঁরা। করোনাসংকট শুরু হওয়ার পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগঠনটি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৩ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষসহ ৩৩২টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে। এর মধ্যে করোনা রোগী ছিলেন ১৫০ জন। বাকিদের উপসর্গ ছিল। সবচেয়ে বেশি ২৩৭ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। ঢাকায় হয়েছে ৫১ জন। এ ছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাটেও লাশ দাফন করেন তাঁরা।সংগঠন সূত্র জানা যায়, করোনাসংকটের শুরুতে সংগঠনটির কর্মীরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লাশ দাফনকাজের প্রশিক্ষণ নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে সুরক্ষা পোশাক পরে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির কোনো স্বেচ্ছাসেবী করোনায় আক্রান্ত হননি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, লাশ দাফন ছাড়াও বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে তারা। গত রমজানে এক লাখ পরিবারে ত্রাণ বিতরণও করে। এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ান বাজারের দিদার মার্কেটে। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এই গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানে দেশে ২০০–এর বেশি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সচিব শাহজাদ ইবনে দিদার জানান, সারা দেশে এই সংগঠন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ করে। দেশের ৫০ জেলায় রয়েছে তাঁদের সংগঠনের বিস্তার। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই সংগঠনের প্রায় ৭০০ কর্মী করোনায় মৃতদের দাফনে কাজ করছেন।
লাশ দাফনকাজের সমন্বয় কমিটির প্রধান মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে লাশের জানাজা পড়ানোর জন্য ইমামও পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে বাংলা শিক্ষিত হয়েও তাঁকে ইমামতি করতে হয়েছে। অনেক সময় পিপিই সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি মনে করেন, সরকারিভাবে আরও সহযোগিতা পেলে সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারবেন।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে তমাল বড়ুয়া বলেন, তাঁর বাবার লাশ গোসল ও শেষকৃত্যের সব কাজ করেন গাউসিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁদের এই সহযোগিতা তাঁর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইফা'র সাবেক ডিজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজালের ইন্তেকালঃ গভীর শোক প্রকাশ

ইসলামকি ফাউন্ডশেনরে সাবকে মহাপরচিালক, সাবকে দায়রা ও জলো জজ, বীর মুক্তযিোদ্ধা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইন্তকোল করছেনে। ইন্নালল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউিন। আমি তাঁর ইন্তকোলে গভীর শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে আ'লা মকাম দান করুক।
শুক্রবার সকাল-৮টায় ঢাকার মশুরীখোলা দরবার শরীফে মরহুমরে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠতি হব।ে এতে দরবার শরীফরে পীর সাহবে আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (মা.জ.িআ.) ইমামতি করবনে।

Wednesday, 24 June 2020

করোনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহায়তা



পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৈড়লা কে. পি. বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এমপিও প্রদত্ত ১দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফারহানা জাহান উপমা’র নিকট হস্তান্তর করেন।

আজ ২ এপ্রিল বিকাল ৩ ঘটিকার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ পটিয়া উপজেলা অফিসে গিয়ে এ টাকা হস্তান্তর করেন। এ সময় বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে সৃষ্ট মহামারীতে দেশের চলমান দুরবস্থায় সরকারের ন্যায় আমরাও উৎকন্ঠিত ও শঙ্কিত। একদিকে দেশের মানুষের জীবন বাঁচানো যেমন দায় হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ায় দেশ এক গভীর সংকটে নিপতিত। দেশের এমন ক্রান্তিকালে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও এই দরিদ্র জনগোষ্ঠির সাহায্যে এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি।  তাই, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ  মানবসেবায় সরকারের ত্রাণ তহবিলে প্রদান করছি।

মাননীয় ইউএনও মহোদয় শিক্ষকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে এলে দেশের একজন মানুষও উপোষ থাকবেনা।



Wednesday, 25 March 2020

করোনার প্রভাবে নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির হিড়িকঃ এ যেন আরেক মহামারী



কোভিড-১৯। যা করোনা ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের শহর উহান থেকেই সর্বপ্রথম এই মরণঘাতি সংক্রামক ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যা চীন পেরিয়ে এখন বিশে^র ১৯৫ টি দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এই সংক্রামক ভাইরাসকে বৈশি^ক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে চীন, ইতালি, স্পেন, আমেরিকা, জার্মানী, ইরানসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে আজকের দিন পর্যন্ত প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। মানুষে মানুষে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক এখনো আবিস্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। ফলে এই সংক্রামক ভাইরাস ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সেবার দিক দিয়ে বিশে^র উন্নত দেশগুলোতে যেখানে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে, সেখানে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের পরিস্থিতি কেমন হবে। এমন শঙ্কার মধ্যেই গত ৮ মার্চ ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশে প্রথম করোনাক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে আইইডিসিআর। তার মানে আমাদের দেশেও ঢুকে পড়েছে করোনা।
স্বাভাবিক ভাবে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তির ‘কোয়ারান্টাইন’ এ থাকা এক প্রকার বাধ্যতামূলক। আর আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্যদের বাঁচাতে সতর্কতামূলক সবাইকে নিজ নিজ বাসস্থলে অবস্থান করাও কার্যকর একটি পদ্ধতি। যে জন্য দেশে দেশে সরকারগুলো আক্রান্ত এলাকা ‘লকডাউন’ করাসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশের সরকারও লকডাউনের দিকে এগুচ্ছে। লকডাউন মানে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন। ‘করোনা’ মহামারীর চেয়ে এই ‘লকডাউন’ যেন হঠাৎ আরো বড় মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশের মানুষের কাছে। অবরুদ্ধ জীবনে মানুষ খাবে কি, বাঁচবে কেমন করে সেটাই যেন প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাইতো একদিকে ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী মজুদ করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে সেই সুযোগে আসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্য বৃদ্ধির হিড়িক পড়েছে। মজুদ করা আর মূল্য বৃদ্ধি করার এই প্রবণতার মাঝে বড় শঙ্কা হয়ে দেখা দিয়েছে দেশের সংখ্যা গরিষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠির বেঁচে থাকা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরার শঙ্কার চেয়েও তাদের মধ্যে এখন না খেয়ে মরার শঙ্কা অনেক বড় করে দেখা দিয়েছে। করোনার পর এটা যেন তাদের জন্য আরেক মহামারী।
সরকার বিষয়টা আঁচ করতে পেরেছে বলে মনে হয়। তাই বাজারে বাজারে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্টেট ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টিম অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতার আনার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জনসাধারণকেও অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় না করতে বুঝানোর চেষ্টা করছে। তবে বাজার অনুপাতে তা যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে, শুধু বাজার মনিটরিং করেও তা নিয়ন্ত্রণ করা বা জনসাধারণকে সচেতন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের ব্যবসায়ী ও  জনগণের মধ্যে নীতি-নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না হবে। সেনাবাহিনী নেমে গেলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র তথ্য মতে দেশে দারিদ্রতার হার ২০.৫ এবং হত দরিদ্রের হার ১০.৫ শতাংশ। আর দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সে হিসেবে প্রায় সোয়া তিন কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। যদিও প্রকৃত তথ্য ভিন্ন বলে মনে হয়। তবুও এই জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করলেও উৎকন্ঠিত না হয়ে পারা যায় না। একদিকে দারিদ্রতা অন্যদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতায় পিছিয়ে আমরা। করোনার মরণব্যাধি একবার তাদের মধ্যে ঢুকে পড়লে কী করুণ অবস্থায় না হবে! না পাবে খেতে, না পাবে চিকিৎসা নিতে।
যদিওবা করোনায় মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশ বলা হচ্ছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে। প্রথম দিকে চীনে তা ছিল ২ শতাংশে। ইতালিতে এই হার বেড়ে হয় ২.৮ শতাংশে। আর এখন বিশ^ব্যাপি যেভাবে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলছে তাতে ৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে যাবে না তা বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে, উন্নত বিশ^ যেখানে সব সুবিধা নিয়েও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতি নিয়ত হেরে চলেছে তাতে এ আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
সরকার দেশের দরিদ্রদেরকে নোয়াখালির ভাসান চরে যাওয়ার কথা বলছে। যেখানে তাদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কত জনকে খাওয়াবে। যা শুনেছি তাতে ওখানে মাত্র ১ লাখ লোকের জায়গা হবে। সোয়া তিন কোটির বাকির জন্য কী ব্যবস্থা হবে? এ পরিস্থিতি যদি আগামী দুই থেকে তিন মাস চলে, তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা ছোট খাটো প্রাইভেট চাকরি বা অন্যান্য কাজ-কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের কী অবস্থা হবে? শুনা যাচ্ছে, অনেকে এই চাকরীও হারাতে পারেন। তাহলে তো ‘মড়ার উপর খাড়ার গা’র মতোই হবে। আসলে করোনার এ লড়াই শুধু  করোনা আক্রান্ত হবার ভয়ে সীমাবদ্ধ নেই, ভয় কোন রকম খেয়ে-পরে বেঁচের থাকারও।
কানাডা সরকার দেশের সকল জনগোষ্ঠিকে আশ^স্ত করতে পেরেছে এই বলে যে, প্রত্যেকের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাবার-দাবার পৌঁছে দেবে তারা। আমাদের কি তা সম্ভব? সম্ভব নয় তা আমরা সকলেই জানি। সুতরাং করোনার এ লড়াই শুধু সরকারের একার নয়, আমাদের সকলের। এটা আমাদের বুঝতে হবে। বেশি করে বুঝতে ব্যবসায়ীদের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা পায় বা না পায়, অন্তত বেঁচে থাকা পর্যন্ত কিছু খাবার-দাবার যেন পায়।
তাই, ব্যবসায়ী ভাইদের অধিক মুনাফা না করে দ্রব্যমূল্যের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা উচিৎ । আর ধনী ও মধ্যবিত্ত  জনগণেরও বুঝা উচিত, টাকা আছে বলে শুধু তারাই অগ্রিম দুই তিন মাসের খাবার মজুত করে রাখবে, বাকী জনগোষ্ঠিরা খাবে কি? এই নৈতিকতাবোধ না থাকলে আমরা মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে লাভটা কি।
সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের এদেশে তা অত্যন্ত বেমানান। কারণ ইসলামের নবী হযরত মুহামম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী”(মুসলিম শরীফ)। অন্যত্র তিনি বলেছেন, “মজুতদার ব্যক্তি খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দর হ্রাস পায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দর বেড়ে যায়, তবে আনন্দিত হয়”(বায়হাকী)।
ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী শরীফে উল্লেখ আছে, “কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে (মজুতদারী করে) তবে আল্লাহ তা’আলা তার উপর মহামারী ও দারিদ্রতা চাপিয়ে দেন”। সুতরাং করোনার ভয়াবহ এই মহামারীতে নিত্য পণ্যের মজুতদারী বা অহেতুক মূল্যবৃদ্ধিকারীরা আমাদের জন্য আরেকটি মহামারীই যেন ডেকে আনছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুক। আমিন।



Sunday, 27 October 2019

ইফতেখার উদ্দীন বাবুঃ সুন্নীয়তের এক নির্ভীক মুজাহিদ


আমার বাড়ীর পাশের বাড়ীটায় তার নানার বাড়ী। তার নিজের বাড়ী অবশ্যই পাশ^বর্তী বাড়ৈকাড়া গ্রামে। গ্রামের পথ ধরে ২৫ মিনিট হাটলেই আরাকান সড়কের পাশ ঘেঁষে শাহ্গদী মার্কেটের ঠিক পশ্চিম পাশের্^ই তার নানার বাড়ীতে আসা যায়। বেশ আসতো সে। এক সময় নানার বাড়ীতে থেকেই লেখা-পড়া করতো।
কালো, মাঝামাঝি গড়নের, নাদুস-নুদুস মায়াবী চেহারার বাবুকে ঠিক ছোট্ট বাবুর মতোই আমার লাগতো। তাকে দেখতাম। কিš‘ কোনো কথা হতো না। এক সময় শাহ্গদী মার্কেট শাখা সেনানী নুরুল আলম রুবেলের সাথে পরিচয় ঘটে বাবুর। দু’জনের বন্ধুত্বও হলো, সাথে ছাত্র সেনার কর্মকান্ডে জড়িয়েও পড়লো। সম্ভবত এভাবেই সে সংগঠনে অন্তর্ভূক্ত হয়। এবার কথা বলার সুযোগ হয় তার সাথে। কথা হয় তবে খুব বেশী নয়, মাঝে-মধ্যে। এমনিতে সে একটু লাজুক স্বভাবের। তথাপি আমারও তখন নিম্ম শাখাগুলোতে সময় দেয়ারও সময় ছিল না। যেহেতু আমি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল। এলাকার বাইরে আমাকে সময় বেশি দিতে হতো।
সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে যতটুকু কথাবার্তা হতো তাতেই বুঝতে পারি সুন্নীয়তকে সে অত্যন্ত ভালোবাসে এবং এ সংগঠনের জন্য সে নিবেদিত প্রাণ।
২০১২ সাল। শাহ্গদী মার্কেটে আমরা একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ছোট ছোট কিছু বৈঠক শেষে আগ্রহী ২৫ জনের ১টি তালিকা তৈরী হলো। প্রত্যেকে মাসে দুই হাজার টাকা করে দশ মাসে বিশ হাজার টাকা অর্থায়ন করবে। অনেক সামর্থবানের যেখানে ঐ টাকা দিতে গলদঘর্ম হয়েছিল সেখানে মাত্র কুড়ি বছরের ইফতেখার বাবু সে টাকা নিয়মিত আদায় করেছে। অথচ সেসময় সে তার বাবাকে হারিয়েছে, পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে, অল্প বেতনের চাকরি। এসবের কোনো কিছুই একটি মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতা করতে তার বাঁধা হতে পারেনি। কষ্টের টাকা তুলে দিল সে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য। অথচ সেই টাকা থেকে এক টাকাও লাভের আশা নেই। তার নিজের এলাকাতেও নয়। তবুও সে টাকা দিল। দিল এ কারণেই, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হ”েছ সুন্নীয়তের স্বার্থে, সেনানীদের উদ্যোগে। এ জন্যই তার অর্থায়ন। পরিবারের এমন দুর্দিনে নিজের এত অল্প বয়সে সুন্নীয়তের স্বার্থে অর্থায়ন করা নিশ্চই এক নির্ভীক মুজাহিদের পক্ষেই সম্ভব।
এছাড়া সম্প্রতি তার এলাকার শিক্ষা-দীক্ষার জন্য আলহাজ¦ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম মিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে সে প্রায় আড়াই গন্ডা জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছে। অনেক ধনী ব্যক্তির পক্ষেও অনেক সময় এত জমি দান করার সাহস হয়না। অথচ সে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিনা দ্বিধায় জায়গা দিয়ে দিল। শিক্ষা-দীক্ষার জন্য, এলাকার গরীব-অসহায় মানুষের জন্য, বিপদগ্র¯’ মানুষের জন্য সে ছিল উদারহস্ত। এলাকায় তার ডাক নাম ছিল মতিন। ছোট-বড়, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ সবাই থাকে ভালোবাসত। তার গুণের কথা, দানের কথা, সমাজের সবার সাথে তার হৃদ্যতার কথা বলেনা এমন কোনো মানুষ নেই এলাকায়। এসব কিছুই তার সুন্নীয়তের জন্য। সুন্নীয়ত ভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য।
ছাত্রসেনাকে সে কত ভালোবাসত তার একটা ঘটনা বলি। বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালনা কমিটি গঠনের সময় বৈঠকে মুরব্বীরা আমাকে সেক্রেটারি প্রস্তাব করলে বাবুসহ সেনার দায়িত্বশীলরা তাতে ভেটো দিয়ে বলে, “ভাইয়া সেনার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ওনাকে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। ওনাকে এখানে সেক্রেটারির দায়িত্ব দিয়ে আটকে রাখা ঠিক হবেনা।” এখানে আমি ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় ছাত্রসেনা ছিল তার হৃদয়ের গভীরে।
ইফতেখার এক সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা শাহ্গদী মার্কেট শাখার দায়িত্ব ছেড়ে তার নিজ ইউনিয়ন বড়লিয়া ইউনিয়ন শাখায় দায়িত্ব নেয়। ছোট কালটা তার কেটেছে নানার বাড়ীতে। বড়লিয়ায় তেমন কারো সাথে খুব বেশি পরিচয় না থাকলেও খুব অল্প দিনের মধ্যে বাবু সেনা ফ্রন্ট সবার আপন হয়ে যায়। তার মুল কারণ, সে ত্যাগী। ত্যাগ শুধু মেধা বা শ্রমের মাধ্যমে নয়। সে সংগঠনের জন্য প্রচুর অর্থও খরচ করত। যদিও বা তার আয় বেশি ছিল না। শুধু কি সংগঠনের জন্য, তার এলাকার গরীব-দু:খী, সাহায্যপ্রার্থী কাউকেই সে খালি হাতে ফেরাতো না। গরীবের মেয়ের বিয়ের জন্য বা এতিম খানার ছেলেদের জন্য তার আলাদা একটা খরচ ছিল। যা অনেক সময় আমরাও জানতাম না। শহর থেকে এক দুদিনের জন্য এসে যাওয়ার সময় অনেকসময় সে ধার করে গাড়ী ভাড়া নিয়ে যেত। আমি মাঝে মধ্যে বকা দিতাম, বুঝাতাম পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে। কিš‘ সে বলতো ,“ ভাইয়া আমি না দিয়ে পারি না।” এই ছিল ইফতেখার উদ্দীন বাবু। সংগঠন ও মানবতার জন্য এই রকম মেলা হাতে খরচ করতে যে কেউ পারেনা। এক্ষেত্রে সে ছিল হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর মতো উদারহস্ত।
সে বলতো, সংগঠন করতে হলে টাকা খরচ করতে হবে। মানুষের পাশে না দাঁড়ালে, মানুষকে সাহায্য না করলে মানুষ আমাদের নির্বাচনে কেন ভোট দেবে? তার স্বপ্ন ছিল মোমবাতি মার্কায় ইউনিয়ন নির্বাচন করার। সে লক্ষ্যেই সে এগিয়ে যা”িছল।
সংগঠনের কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাকে দেখতাম রাত-দিন পরিশ্রম করতো। সে টাকার চিন্তার চেয়ে বেশি চিন্তা করতো কর্মসূচি সফল করতে। টাকা যা উঠে, ঘাটতি হলে বাবু আছে। তাইতো সংগঠনের অনেক দুরাব¯’ার মধ্যেও বড়লিয়া ইউনিয়নের কর্মকান্ড ছিল চোখে পড়ার মতো।
২০১৭ সালে যখন সে ইউনিয়নের সি. সহ-সভাপতি। আমাকে ফোন দিয়ে বলল, অমুক তারিখ আমরা কাপ্তাই শিক্ষা সফর যা”িছ, আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। গেলামও। দেখলাম, প্রায় ৪৫ জনের ঐ কাফেলায় সবার পরনে গেঞ্জি এক কালারের এবং পেছনে ইফতেখারের সৌজন্যে বøক মারা। এতজনের গেঞ্জিসহ আরো অনুদান ঐ সফরের জন্য তার ছিল যা অনেক সময় আমাদের বড় শিল্পপতি নেতারাও দেন না। আসলে সংগঠনের জন্য তার পকেট ছিল উন্মোক্ত। এই রকম সিদ্দীকি মুজাহিদ সংগঠনে বড্ড প্রয়োজন।
সংগঠনের ইউনিয়ন নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনে তার সর্বস্ব উজাড় করা যে ভূমিকা আমি দেখেছি তা আমাকে অভিভূত করেছে। এমন নিবেদিত প্রাণ কর্মীটি ২০১৮ সালে ইউনিয়ন সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে যখন কমিটি নবায়ন করতে যা”িছল আমি তাকে উপদেশ দিয়েছিলাম দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্ত এমন নিবেদিত প্রাণকে কে হারাতে চায়? ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা তাকে পূনরায় সভাপতির গুরু দায়িত্বভার তুলে দিয়ে আমার মনে হয় অনেকটা নির্ভার হয়েছিলেন।
এছাড়া তরিকতের খেদমতের জন্যও সে ছিল অন্তপ্রাণ। কাদেরীয়া তরিকার অন্যতম সংগঠন ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’ বড়লিয়া ইউনিয়ন শাখার সে ছিল সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং ৫ নং ওয়ার্ড বাড়ৈকাড়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। জামেয়া, আঞ্জুমানের প্রতি তার ছিল আলাদা টান। সুযোগ পেলেই সে চলে যেতো জামেয়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও সে সমানভাবে জড়িত ছিল। তন্মধ্যে পটিয়া স্বপ্নীল পরিবার লি. অন্যতম। এই সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড বিশেষ করে দু¯’-অভাবীদের জন্য চাল বিতরণ, ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, প্রয়োজনীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যব¯’াসহ গরিব মেয়েদের বিয়েতে এককালীন সাহায্য প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করতো। 
এই রকম ভালো মন ও উদার দিলের মানুষকে যে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিয় ওয়াসাল্লাম এত তাড়াতাড়ি কাছে টেনে নিতে ডাক দিলেন, সে ডাকে সাড়া না দেয়ার দু:সাধ্য তো বাবুর ছিল না। আল্লাহ ও তাঁর হাবিব (দ.) যাকে ভালোবাসেন তাঁকে মনে হয় খুব তাড়াতাড়িই নিয়ে যান। সে জন্য মনে হয় তার দ্বারা অল্প বয়সে সব ভালো কাজও আদায় করে নিয়েছেন।
তাকে হারানোটা আমি বিশ^াস করতে পারছিনা বলে এতক্ষণ পরেও লিখতে পারছিনা যে ইফতেখার গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। তার অফিসের কলিগের মোটর সাইকেলে অফিসের কাজে যাওয়ার সময় ঘাতক ট্রাক তার বাইককে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনা¯’লে সে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে।
যদিও ঘটনাটি মর্মান্তিক, কিš‘ ইসলামের দৃষ্টিতে সে একজন শহিদের মর্যাদা পাবে। কেননা “মহামারী, ডায়রিয়া, পানিতে নিমজ্জন, অগ্নিদগ্ধ, পক্ষাঘাত, গর্ভাব¯’া ও চাপা পড়ে [ঘর, বৃক্ষ, গাড়ি ধ্বংস¯‘প প্রভৃতি] যারা মৃত্যুবরণ করবেন, ইসলামের দৃষ্টিতে তারা শহিদ হিসেবে পরিগণিত হবেন। [বুখারি ও আবু দাউদ] এই হাদিসে নববী মতে প্রিয় নবীর আদর্শের এই মর্দে মুজাহীদ একজন শহিদ। যেহেতু সে গাড়ি চাপায় ইন্তেকাল করেছে।
অন্য দিক দিয়ে ইফতেখার একজন প্রিয় নবীর আদর্শের মর্দে মুজাহীদ, বীর সেনানী। জীবনের পুরোটা সময় প্রিয় নবীর আদর্শের রাজ কায়েমে ছাত্রসেনার সংগঠনে থেকে জিহাদ করেছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মজিদের সূরা ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেছেন- ‘আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয় তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে কোরো না বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।’ যেহেতু ইফতেখার আল্লাহর পথে জিহাদে রত ছিলো সেহেতু সেও শহিদ।
আর শহিদদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এভাবে আল্লাহ জানতে চান কারা ঈমানদার আর তিনি তোমাদের কিছু লোককে শহিদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। আল্লাহ অত্যাচারীকে ভালোবাসেন না।’ (সূরা আলে ইমরানের ১৪০) প্রিয় নবীর আদর্শের  এই নির্ভীক মুজাহিদকে হয়তো আল্লাহ তায়ালা শহিদ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ে গেছেন।
আর যারা শহীদের মর্যাদা প্রাপ্ত হন, ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কবর আজাব মাফ এবং জান্নাতে তারা অফুরন্ত নিয়ামত লাভ করবেন।  সে যে একজন জান্নাতী বা আল্লাহর নেয়ামত প্রাপ্ত তার ইন্তেকালের পর জানাযা মাঠেও তা প্রতিভাত হয়। ঐ এলাকায় একজন মৃত মানুষের জন্য এত মানুষ জানাযায় উপ¯ি’ত হওয়াটাও ছিল বিস্ময়ের। এলাকার এমন কোন মানুষ ছিল না, যারা তার জন্য চোখের পানি ফেলে নি, জানাযায় অংশগ্রহণ করেনি। সেনানীরা তো ছিলই। ইফতেখারের জন্য বড় নেয়ামতটি ছিল এটি যে, বাংলার খাজা খ্যাত এতদঞ্চলের প্রখ্যাত অলী, মুশকিল কোশা হযরত শাহ্গদী (রহ.) এর পবিত্র মাজারে পাকের একদম লাগোয়া শায়িত হতে পারা। সুন্নীয়তের নির্ভীক এই মুজাহিদ যে একজন সত্যিই সৌভাগ্যবান ছিলো হয়তো এটাই তার প্রমাণ। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে আ’লা মকাম দান করুক। প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন নির্ভীক সৈনিক হিসেবে তাঁর সুপারিশ লাভ করুক এবং নবিজির দিদার নসীব করুন । আমিন।
সবাইকে তো চলে যেতে হবে। এভাবে কাউকে হারাবো সেটা যেমন কাম্য নয়, আল্লাহর কাছ থেকে কাউকে ছিনিয়ে নেয়ার দু:সাধ্যও আমাদের নেই। আজ ইফতেখারের বিদায় কাল হয়তো আমাদের কারও। আমরাও যেন ইফতেখারের মতো নি:স্বার্থভাবে সুন্নীয়তের সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে অমর হতে পারি, ইফতেখারের অপূরনীয় স্বপ্ন আমরা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি,আল্লাহ তায়ালার কাছে এই ফরিয়াদ।

# মু. জামাল উদ্দীন রব্বানী

ইসলামে রাজনীতি ও তাকওয়া

 ভূমিকা ইসলামে রাজনীতি ও রাজনীতিতে তাকওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইকামতে দীন’ তথা আল্লাহর আইনপ্রতি...